হরমুজ সংকটে কাতারও যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি কিনছে, ২০৫৪ সাল পর্যন্ত চুক্তি
ইরান যুদ্ধের আগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে শীর্ষ অবস্থানে ছিল কাতার। এখন সেই কাতারই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এলএনজি কেনার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রায়ত্ত কাতারএনার্জি মার্কিন প্রতিষ্ঠান চেনিয়েরে এনার্জির সঙ্গে এ চুক্তি সই করে।
চুক্তি অনুযায়ী ২০৫৪ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৪০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি কিনবে কাতার। দাম ঠিক হবে যুক্তরাষ্ট্রের হেনরি হাব সূচকের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট ফি যোগ করে। ২০৩০-এর দশক থেকে এ সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা।
গত মার্চে কাতারের প্রধান গ্যাস কেন্দ্র রাস লাফানে ইরানের হামলায় দুটি উৎপাদন লাইন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা দেশটির মোট রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ। কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন, মেরামতে প্রায় তিন বছর লাগবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকায় দেশটি এখন খুবই অল্প পরিমাণ এলএনজি রপ্তানি করতে পারছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মেরামতের পরও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা অনিশ্চিত থাকায় কাতার এই দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প বেছে নিয়েছে। সূত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রতিষ্ঠান ভেঞ্চার গ্লোবালের কাছ থেকে বছরে ৩০ লাখ টন গ্যাস কেনার আলোচনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।
বাংলাদেশ কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে বছরে প্রায় ৪০ লাখ টন এলএনজি পেত। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির জটিলতায় ২০২৬ সাল থেকে সেই সরবরাহ ব্যাহত ও স্থগিত রয়েছে।