লো ব্লাড সুগার বনাম হাই ব্লাড সুগার: কোনটি বেশি বিপজ্জনক?
লো ব্লাড সুগার ও হাই ব্লাড সুগার উভয়ই শরীরের জন্য বিপজ্জনক। তবে লো ব্লাড সুগার সাধারণত তাৎক্ষণিকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘকাল ধরে হাই ব্লাড সুগারের মাত্রা বেশি থাকলে কিডনি, চোখ, স্নায়ু, হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির ক্ষতি হতে পারে।
কোরা প্ল্যাটফর্মে রক্তে লো ব্লাড সুগার ও হাই ব্লাড সুগারের মধ্যে কোনটি বেশি বিপজ্জনক সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। জ্যান্ড্রা হেলথকেয়ারের ডায়াবেটিস ও স্থূলতা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রাজীব কোভিল জানান, দুটিই বিপজ্জনক, তবে লো ব্লাড সুগার দ্রুত গুরুতর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে ক্ষুধা, ঘাম, কাঁপুনি ও বুক ধড়ফড় করার লক্ষণ দেখা দেয়। পরিস্থিতি গুরুতর হলে বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা অচেতন হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। গুরুতর হাইপোগ্লাইসেমিয়া, দুর্ঘটনা ও অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকিও বাড়ে।
আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের সংজ্ঞা অনুযায়ী, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ৭০ মিলিগ্রামের নিচে নামলে তা হাইপোগ্লাইসেমিয়া। মাত্রা ৫৪ মিলিগ্রামের নিচে নামলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
দীর্ঘকাল ধরে রক্তে সুগারের পরিমাণ বেশি থাকলে বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস (ডিকেএ) বা হাইপারঅসমোলার হাইপারগ্লাইসেমিক স্টেট (এইচএইচএস) প্রাণঘাতী পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, বমি, পেটে ব্যথা, পানিশূন্যতা, দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস বা বিভ্রান্তির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
রক্তে সুগারের পরিমাণ কমে গেলে সচেতন ব্যক্তি হলে দ্রুত গ্লুকোজ জাতীয় খাবার দিতে হবে। ১৫ মিনিট পর রক্তে সুগারের মাত্রা পরীক্ষা করতে হবে। যদি আবারও কম থাকে, তবে একই চিকিৎসা পুনরাবৃত্তি করতে হবে।
অচেতন ব্যক্তি বা খিঁচুনি হওয়া রোগীকে মুখে খাবার বা তরল দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে গ্লুকাগন দিয়ে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে।
চিকিৎসক কোভিলের মতে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য শুধু সুগারের মাত্রা কমানো নয়, বরং বিপজ্জনক ওঠানামা এড়িয়ে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা।