দারফুরের বাজারে ড্রোন হামলা, সুদানে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর দাবি

সুদানের দক্ষিণ দারফুর অঞ্চলে একটি ব্যস্ত বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লয়ার্স। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিয়ালা শহরের ওই বাজারে হামলা হয়। নিহতদের বড় অংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন আরও ১১৩ জন।

নিয়ালা আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মূল ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বাজারে চা ও খাবার বিক্রেতাদের পাশাপাশি আরএসএফের অনেক সদস্যও সে সময় জড়ো হয়েছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান। এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, রাত আটটার দিকে ড্রোনটি আঘাত হানলে বিস্ফোরণে বহু সদস্য ও নারী বিক্রেতা প্রাণ হারান।

সেনাবাহিনীর পক্ষে লড়া স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সেসের মুখপাত্র মোহামেদ দিদান দাবি করেছেন, নিয়ালার পশ্চিমে দুমাইয়া ক্যাম্পে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে চালানো বিমান হামলায় দেড়শোর বেশি মিলিশিয়া সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক প্রাথমিকভাবে ২১ জন নিহত ও চল্লিশের বেশি আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও চলমান সামরিক অভিযানের কারণে সঠিক তথ্য সংগ্রহ কঠিন হওয়ায় হালনাগাদ তথ্য দিতে দেরি হচ্ছে বলে সংস্থাটি জানায়।

মেডিসিন্স স্যান ফ্রন্টিয়ার্স জানিয়েছে, তাদের সহায়তায় চলা হাসপাতালে ৩৬টি মরদেহ আনা হয়েছে, যাদের ২১ জন বেসামরিক পোশাকে ছিলেন। দেড়শোর বেশি আহত ব্যক্তি সেখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। সংস্থাটি বলেছে, বাজার, ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো কোনোভাবেই হামলার লক্ষ্য হতে পারে না; সংঘাতের সব পক্ষকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে হবে।

দারফুরের এক ত্রাণকর্মী বলেন, যুদ্ধের কোনো নীতি থাকে না; প্রতিদিনই সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি মূল্য দিচ্ছেন। তাঁরা স্বজন ও বাড়িঘর হারাচ্ছেন এবং নতুন বোমা হামলার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, সুদানজুড়ে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এখন ড্রোন হামলা। এর ফলে দেশের নানা এলাকায় তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে এবং শরণার্থী সংকটও বেড়ে চলেছে।

All Categories