গজারিয়ায় দুই সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধসহ আহত ৯, থানায় দুজন

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় আলাদা দুটি সংঘর্ষ ও হামলায় টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রামে পুরোনো বিরোধের জেরে সাবেক ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে ইউপি সদস্য মাহফুজুর রহমান রিপনের অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের পাঁচজন আহত হন। তাঁরা হলেন গিয়াস উদ্দিনের ছোট ভাই আতাউর (৪০), ভাতিজা বাইজিদ (১৪), সোহেল (৪১) এবং প্রতিপক্ষের মুজাহিদ (১৭) ও অমিত (২০)।

গিয়াস উদ্দিন পেশায় আড়তদার। তাঁর দাবি, রাতে আড়তের কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের আট থেকে ১০ জন টেঁটা, রামদা ও ছুরি নিয়ে তাঁকে আক্রমণ করেন। তিনি পালিয়ে গিয়ে স্বজনদের খবর দেন। পরে স্বজনেরা গেলে আতাউর টেঁটাবিদ্ধ হন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে বাইজিদ ও সোহেলও মারধর ও কোপের শিকার হন বলে তিনি জানান।

অভিযোগ অস্বীকার করে মাহফুজুর রহমান রিপন বলেন, তিনি কয়েক দিন ধরে ঢাকায় আছেন। তাঁর ভাষ্য, একটি ফুটবল খেলায় অতিথি আনা ও পোস্টার নিয়ে উত্তেজনা থেকে বিরোধের সূত্রপাত। পরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। আতাউর, সোহেল, মুজাহিদ ও অমিতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন সেলিম মিয়া। পুলিশ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে।

একই দিন সন্ধ্যায় বাউশিয়া ইউনিয়নের চর বাউশিয়া ফরাজীকান্দি গ্রামে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে জামাল উদ্দিনের বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে আলাউদ্দিনের লোকজনের বিরুদ্ধে। এতে জামাল উদ্দিনের ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রী মনি বেগম, ছেলে সুমন মিয়া, মেয়ে ইতি আক্তার ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী লিলি আক্তার আহত হন।

ভুক্তভোগী পরিবার সাতজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সৌদি প্রবাসী সুমন মিয়া জানান, তিন মাসের ছুটিতে দেশে এসেছেন। তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করছেন, সম্প্রতি আলাউদ্দিন সেটি নিজের বলে দাবি করছেন। কাগজপত্র নিয়ে সালিশে বসার প্রস্তাবে তাঁরা রাজি হননি, বরং জোর করে সীমানা দখলের চেষ্টা করেছেন। আলাউদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গজারিয়া থানার ওসি নকীব আকরাম বলেন, দুই ঘটনায় দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বড় ভাটেরচর থেকে শাহজালাল ও রিফাত নামে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

All Categories