সরকারের সমালোচনায় দেশবিরোধী তকমা: গর্ব করে নিজেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বললেন নাসিরুদ্দিন শাহ

সরকারের সমালোচনায় দেশবিরোধী তকমা: গর্ব করে নিজেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বললেন নাসিরুদ্দিন শাহ

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচকদের ‘দেশদ্রোহী’ ঠাউরানোর প্রবণতার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন প্রখ্যাত অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। জেএনইউ, পুনের এফটিআইআই ও জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, তরুণদের মনোবল ভেঙে দেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নষ্ট করা এবং গণতন্ত্রকে হুমকিতে ফেলার চেষ্টা থামাতে হবে।

ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সামলাতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এই অভিনেতা। শিক্ষা ও গণতন্ত্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও জানান তিনি। ব্যঙ্গ করে নিজেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলেন নাসিরুদ্দিন।

তাঁর অভিযোগ, সরকারের সমালোচনা করলেই কাউকে দেশবিরোধী, কাউকে ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-এর সদস্য বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদে তিনি বলেন, গর্বের সঙ্গেই তিনি নিজেকে এ নামে পরিচয় দিচ্ছেন।

ভিডিওতে তিনি তিনটি প্রতিষ্ঠানের কথা তোলেন। প্রথমে জেএনইউ, তারপর এফটিআইআই, আর এখন জামিয়ার শিক্ষার্থীরা চাপ ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন বলে তাঁর মত। এসব ঘটনা মানুষ মনে রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি এফটিআইআইয়ে ক্যাম্পাসে সহিংসতার অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। গত সপ্তাহেও তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন নাসিরুদ্দিন।

এদিকে জামিয়ার শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাঁদের বক্তব্য, ২০০৬ সালের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নির্বাচন হয়নি। ছাত্র সংসদের সংবিধান অনুমোদনের সময়সীমা পরিষ্কার করারও দাবি তুলেছেন তাঁরা। নাসিরুদ্দিন বলেন, শিক্ষাঙ্গনে প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের পরিবেশ রক্ষা করা জরুরি।

একই বক্তব্যে তিনি গণমাধ্যমের একটি অংশ ও বিজেপির আইটি সেলের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, সমালোচকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে এরা ভূমিকা রাখছে। গণমাধ্যমের ওই অংশকে তিনি ‘গোদি মিডিয়া’ বলে কটাক্ষ করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে আলাদা কোনো প্রমাণ তিনি দিয়েছেন কি না, তা পরিষ্কার নয়।

ভিডিওর শেষে তিনি বিসমিল আজিমাবাদির বিখ্যাত ‘সরফরোশি কি তমন্না’ কবিতার একটি চরণ আবৃত্তি করেন। প্রতিবাদীদের উদ্দেশে বলেন, যত অস্ত্র আছে সবই প্রয়োগ করা হোক; তাতেও তরুণদের মনোবল ভাঙা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা বা গণতন্ত্রকে বিপন্ন করা যাবে না।

All Categories