শেষ ওভারে পেসারদের সুবিধা: আইসিসির নতুন বল-নিয়মে বদলে যাচ্ছে ওয়ানডে
ওয়ানডে ক্রিকেটের শেষ দিকের ওভারগুলোতে এতদিন ব্যাটারদেরই আধিপত্য দেখা যেত। আইসিসির নিয়ম বদলের পর সেই চিত্রে পরিবর্তন আসছে। পুরোনো বলে রিভার্স সুইং পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায় পেসাররা আবার ম্যাচে ফিরছেন।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ওয়ানডের খেলার শর্তে বদল আনে আইসিসি। নতুন নিয়মে ইনিংসের ৩৪তম ওভার শেষে অধিনায়ক দুই প্রান্তের দুটি সাদা বলের একটি বেছে নিতে পারেন, আর বাকি ১৬ ওভার সেই বলেই খেলা হয়। ফলে বলটি বেশি সময় ব্যবহৃত হয়ে পুরোনো হয় এবং রিভার্স সুইংয়ে সহায়তা করে।
আগে পুরো ইনিংসজুড়েই দুই প্রান্ত থেকে দুটি আলাদা নতুন বল ব্যবহার হতো। ব্যাট ও বলের লড়াইয়ে ভারসাম্য আনতেই এই পরিবর্তন। পুরোনো বল বাতাসে অনিশ্চিতভাবে বাঁক নিতে পারে, যা পেসারদের উইকেট নেওয়ার সুযোগ বাড়ায়।
পরিসংখ্যানেও এর প্রভাব স্পষ্ট। নিয়ম চালুর পর শেষ ১০ ওভারে পেসারদের ফুল লেংথ বলের অর্ধেক এক ডিগ্রির বেশি সুইং করেছে, যেখানে আগের ১৮ মাসে এই হার ছিল ৩৫ শতাংশ।
শেষ পাঁচ ওভারে পেসারদের ইকোনমি রেট ৮.৪০ থেকে নেমে হয়েছে ৭.৯৫, আর বোলিং গড় ১৯.২ থেকে কমে ১৮.৩। পুরোনো বলের মুভমেন্ট কাজে লাগাতে পেসাররা এখন আগের চেয়ে ফুলার লেংথে বল করছেন।
প্রভাব কেবল একটি দল বা সিরিজে সীমিত নয়। একাধিক আন্তর্জাতিক দলই ইনিংসের শেষে আগের চেয়ে ধীরে রান তুলছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রে শেষ ওভারগুলোর রান রেট ওভারপ্রতি ২.৩৯ কমেছে।
তবে এর মানে এই নয় যে ব্যাটিং সর্বত্র কঠিন হয়ে গেছে। প্রথম ৩৪ ওভারে দুটি বলই ব্যবহৃত হওয়ায় দলগুলোকে শুরুর পরিকল্পনা ও শেষ দিকে পুরোনো বল সামলানোর কৌশল—দুটিতেই মনোযোগ দিতে হবে।
আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসছে, পুরোনো বলের মুভমেন্ট সামলানো ও কাজে লাগানোর দক্ষতা তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রাথমিক তথ্য বলছে, ব্যাট-বলের ভারসাম্য ফেরানোর লক্ষ্যে ওয়ানডে ক্রিকেট ধীরে ধীরে এগোচ্ছে।