প্রবল টাইফুন ‘চাম্পি’র আঘাতের শঙ্কায় থমকে গেছে তাইওয়ান

প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রায় পুরো তাইওয়ানের স্বাভাবিক জীবন থমকে গেছে। শক্তিশালী টাইফুন ‘চাম্পি’ দ্বীপটিতে সরাসরি আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদিও ঝড়টির তীব্রতা এখন কিছুটা কমেছে।

দেশটির কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন জানায়, ঝড়টি একসময় ‘সুপার টাইফুন’ পর্যায়ে পৌঁছেছিল এবং এ বছর প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়গুলোর একটি। এখন এর কেন্দ্রের কাছে বাতাসের সর্বোচ্চ ঝাপটা ঘণ্টায় প্রায় ১৯১ কিলোমিটার।

আবহাওয়া প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়টি এখন তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্তের প্রায় ৩২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছে। পূর্বাভাস বলছে, এটি দ্বীপের উত্তর-পূর্ব অংশ ছুঁয়ে চীনের উপকূলের দিকে বাঁক নেবে, এরপর জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে এগোবে।

এরই মধ্যে ঝড়ের কারণে একজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ৯৪ জন। সরকার পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়েছে।

আবহাওয়া প্রশাসনের এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ানের কাছাকাছি এসে ঝড়টি থেমে গেলে, ঘুরপাক খেলে বা দিক বদলালে সরাসরি স্থলভাগে আঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাঁর ভাষায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোর বড় ঝড়ের মধ্যে এর বাতাসের পরিধি যথেষ্ট বড়, আর গতি কমলে দীর্ঘ সময় ধরে প্রবল বাতাস চলবে।

উপকূলীয় শহরগুলোর বাসিন্দাদের মোবাইলে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে দ্রুত আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে; সেখানে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাসের আশঙ্কা রয়েছে। রাজধানী তাইপে ও উত্তরের পাহাড়ি এলাকায় প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝড়ের বাতাসের ব্যাসার্ধ প্রায় ৩২০ কিলোমিটার, ফলে দ্বীপের বড় অংশ এর আওতায় পড়বে এবং প্রভাব দুই দিনের মতো থাকতে পারে।

ঝড়ের কারণে শুক্রবার দেশটির শেয়ার ও আর্থিক বাজার বন্ধ রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ২৬২টি ও আন্তর্জাতিক ৬৬৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তবে উত্তর-দক্ষিণ দ্রুতগতির রেল চলছে। চীন উপকূলের কাছের কিনমেন দ্বীপে স্কুল ও অফিস স্বাভাবিক নিয়মে খোলা আছে।

All Categories