ইনানীর রিসোর্টে আগুন ও হিমছড়িতে প্রাণহানির পর কক্সবাজারে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজার দেশের পর্যটনশিল্পের প্রাণকেন্দ্র। প্রতিবছর লাখো দেশি-বিদেশি পর্যটক সেখানে যান। কিন্তু সম্প্রতি পরপর কয়েকটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ইনানীর একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। এর দুই দিনের মাথায় হিমছড়ি সৈকতে সাগরে নেমে একই পরিবারের সদস্যসহ চার পর্যটক প্রাণ হারান। এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা বলতে নারাজ পর্যটনসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা ও দুর্বল তদারকিই এর পেছনে দায়ী।

ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে কক্সবাজারে অসংখ্য হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট গড়ে উঠলেও অনেকগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ, প্রশিক্ষিত কর্মী ও নিয়মিত মহড়ার ঘাটতি আছে। সৈকতেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, লাইফগার্ড ও উদ্ধার সরঞ্জামের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, পর্যটন ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি আছে। তাদের ভাষ্য, ২০২৩ সাল থেকে নিয়মবহির্ভূত স্থাপনা ও নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে একাধিক নোটিশ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি হোটেল ও রিসোর্টে বাধ্যতামূলক অগ্নিনিরাপত্তা নিরীক্ষা, নিয়মিত মহড়া ও কার্যকর বহির্গমন পথ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সৈকতে লাইফগার্ড বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা, ড্রোন নজরদারি ও আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম যুক্ত করা জরুরি। শুধু তদন্ত কমিটি গঠন নয়, দৃশ্যমান ও স্থায়ী পরিবর্তন না এলে পর্যটকদের আস্থা কমার আশঙ্কা রয়েছে।

All Categories