সৌদি আরবে ছয় মাসে ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, ৫৯ জনই বিদেশি

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সৌদি আরবে অন্তত ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯ জন, অর্থাৎ ৫৪ শতাংশই বিদেশি নাগরিক। তালিকায় বাংলাদেশিও আছেন বলে জানা গেছে।

মানবাধিকার সংস্থা ইউরোপীয়-সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস (ইএসওএইচআর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে ৭১ জন, হত্যার দায়ে ২৫ জন, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মামলায় ৯ জন এবং অন্য অপরাধে তিনজনের দণ্ড কার্যকর হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আমলে কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডের মোট সংখ্যা ২ হাজারে ঠেকেছে, যা আগের আমলগুলোর তুলনায় রেকর্ড বলে দাবি করা হয়েছে।

মাদকের দায়ে দণ্ড পাওয়া ৭১ জনের মধ্যে ৪৯ জনই বিদেশি; এদের মধ্যে ইথিওপিয়া, পাকিস্তান, সুদান ও ইয়েমেনের নাগরিক বেশি। সংস্থাটির মতে, এই নীতির প্রভাব অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর অনেক বেশি পড়ছে। মাদক-সংক্রান্ত দণ্ডের অন্তত ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ গাঁজা-সংক্রান্ত মামলায়, যে ধরনের মামলায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব আবার দণ্ড কার্যকর শুরু করেছে।

ইএসওএইচআরের ভাষ্য, মোট ১০৮টির মধ্যে ৮৩টি দণ্ড এমন অপরাধে কার্যকর হয়েছে, যেখানে ইচ্ছাকৃত হত্যা ছিল না। আন্তর্জাতিক আইনে মৃত্যুদণ্ড কেবল ‘সবচেয়ে গুরুতর অপরাধে’ সীমিত থাকার কথা, যার সঙ্গে এই চর্চা মেলে না বলে সংস্থাটি মনে করে। এ ছাড়া ৮৪টি দণ্ড ছিল ‘তাজির’ ধারার, যেখানে শাস্তি নির্ধারণে বিচারকের বিবেচনার সুযোগ বেশি।

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মামলার দণ্ড মোটের প্রায় ৮ শতাংশ। জুনে সৌদ আল-ফারাজের এবং ৯ এপ্রিল আলী আল-সুবাইতির দণ্ড কার্যকর হয়েছে। সুবাইতির বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে ১২ বছর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার বিষয়ও ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, শৈশবে কথিত অপরাধের দায়ে অন্তত পাঁচজন এখনো মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে আছেন। জাতিসংঘের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের কয়েকজনের আটক নির্বিচার বলে মুক্তির আহ্বান জানালেও সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ।

বিভিন্ন কারাগারে বিপুলসংখ্যক বিদেশি মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় আছেন। খামিস মুশাইত কারাগারে ইথিওপিয়ার ৫৮ জন, নাজরানে ইথিওপিয়ার পাঁচজন ও সোমালিয়ার পাঁচজন এবং তাবুকে মিসরের আটজন রয়েছেন। সংস্থাটির অভিযোগ, এসব মামলায় দোভাষী ও আইনি সহায়তার অভাবসহ নানা অনিয়ম হয়েছে।

ইএসওএইচআর বলছে, আন্তর্জাতিক সমালোচনা সত্ত্বেও সৌদি আরব বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশগুলোর একটি হয়ে থাকার পথেই রয়েছে।

All Categories