শিশুর জ্বরে শরীর মোছানোর আগে যে নিয়মগুলো জানা জরুরি
শিশুর জ্বর এলে অভিভাবকেরা স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় পড়েন। কেউ কপালে জলপট্টি দেন, কেউ আবার ঠান্ডা পানিতে গা মুছিয়ে দেন। কিন্তু জ্বরের সময় শিশুকে স্বস্তি দিতে কী করা যায় আর কোন কাজ এড়িয়ে চলতে হবে, তা জানা দরকার। বিশেষ করে একেবারে ঠান্ডা পানি ব্যবহার কিংবা কাঁপুনি ধরিয়ে দেয় এমনভাবে শরীর শীতল করা মোটেই উচিত নয়।
গা মোছানোর দরকার হলে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি নিন। বরফগলা বা ফ্রিজের পানি নয়। অতি ঠান্ডা পানিতে শিশু কাঁপতে পারে, এতে তার অস্বস্তি আরও বাড়ে। মনে রাখা ভালো, গা মোছানো জ্বর কমানোর কোনো নিয়মিত বা বাধ্যতামূলক চিকিৎসা নয়।
শিশুকে পাতলা, আরামদায়ক কাপড় পরিয়ে রাখুন। অনেক কাপড় বা মোটা কম্বলে ঢেকে দেবেন না। ঘরে যেন বাতাস চলাচল করে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে নরম কাপড় পানিতে ভিজিয়ে চিপে নিয়ে আলতো করে শরীর মুছে দিন। শিশু কাঁপলে, অস্বস্তি বোধ করলে বা কাঁদতে শুরু করলে মোছানো থামিয়ে দিন। জোর করে বেশিক্ষণ মোছানোর দরকার নেই।
জ্বরে শরীরে পানিশূন্যতা হতে পারে। তাই বয়স অনুযায়ী মায়ের দুধ, পানি বা অন্য উপযুক্ত তরল খাওয়ান। অল্প অল্প করে বারবার দিন এবং প্রস্রাব কমে যাচ্ছে কি না লক্ষ রাখুন।
থার্মোমিটারে জ্বর মাপুন। একই সঙ্গে দেখুন শিশু ডাকে সাড়া দিচ্ছে কি না, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে কি না এবং খাওয়া-পানীয় গ্রহণ করতে পারছে কি না। ওষুধ দেওয়ার পরও জ্বর পুরোপুরি না নামলেই গুরুতর কিছু, এমন নয়; শিশুর সার্বিক অবস্থাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিন মাসের কম বয়সি শিশুর জ্বর ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। যেকোনো বয়সে শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অস্বাভাবিক নিস্তেজ ভাব, ঘুম থেকে জাগাতে না পারা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া কিংবা চাপ দিলেও না মেলানো ফুসকুড়ি দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা লাগবে। পানি পান করতে না পারা বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলেও দেরি করা ঠিক নয়।
জ্বর বহুদিন থাকলে, বাড়তে থাকলে বা শিশুর অবস্থা নিয়ে সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসক না বললে শিশুকে অ্যাসপিরিন দেবেন না এবং বয়স ও ওজন অনুযায়ী সঠিক মাত্রা না জেনে জ্বরের ওষুধ খাওয়াবেন না।
সব মিলিয়ে, শিশুকে আরামে রাখা, পর্যাপ্ত তরল খাওয়ানো এবং বিপদের লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই আসল কথা; বারবার জলপট্টি বা গা মোছানো নয়।