মরুভূমিতে দিনে আগুন-গরম, রাতে হাড়কাঁপানো শীত কেন?

দুপুরের কড়া রোদে মরুভূমির বালু এত তপ্ত হয় যে পা রাখাই দায়। অথচ সূর্য অস্ত যেতেই পরিবেশ বদলে যায়, তাপমাত্রা দ্রুত নেমে আসে এবং অনেক সময় রাত হয়ে ওঠে বেশ ঠান্ডা। একই জায়গায় অল্প কয়েক ঘণ্টায় এমন নাটকীয় পরিবর্তনের কারণ কী?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মূল কারণ তিনটি: শুষ্ক বাতাস, আকাশে মেঘের স্বল্পতা এবং রাতে ভূমি থেকে তাপের দ্রুত বেরিয়ে যাওয়া। দিনে সূর্যের আলোয় বালু ও পাথর দ্রুত গরম হয়, কিন্তু সূর্য ডুবলে সেই তাপ আবার মহাকাশের দিকে ফিরে যেতে থাকে।

বাতাসের জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে তাপ ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। আর্দ্র এলাকায় জলীয় বাষ্প ভূপৃষ্ঠ থেকে ওঠা তাপের একটি অংশ শুষে নিয়ে আবার নিচের দিকেও ছড়িয়ে দেয়। মরুভূমিতে বৃষ্টি কম এবং বাতাস শুকনো হওয়ায় এই ঢাল প্রায় থাকে না, ফলে রাতে মাটি দ্রুত তাপ হারায়।

মেঘও একই ভূমিকা রাখে। মেঘ ভূপৃষ্ঠ থেকে আসা অবলোহিত রশ্মির একাংশ আটকে নিচে ফেরত পাঠায়, তাতে তাপ হারানোর গতি কমে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে এই বাধা না থাকায় রাতের তাপমাত্রা দ্রুত পড়ে যায়।

আরেকটি বিষয় হলো বালু ও শুকনো মাটির তাপ ধারণক্ষমতা। পানির মতো এরা বেশি তাপ জমিয়ে রাখতে পারে না, তাই দিনে দ্রুত গরম হলেও সন্ধ্যার পর দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়। তবে এর মাত্রা নির্ভর করে বালুর ধরন, মাটির গঠন, বাতাসের গতি ও আর্দ্রতার ওপর।

সব মরুভূমির রাত অবশ্য একরকম নয়। অবস্থান, ঋতু, উচ্চতা, মেঘ ও আর্দ্রতার তারতম্যে কোথাও রাত কনকনে ঠান্ডা, আবার সমুদ্র-ঘেঁষা আর্দ্র মরুভূমিতে রাতেও তুলনামূলক উষ্ণতা থাকে।

নাসার তথ্য অনুযায়ী মরুভূমিতে দিনের গড় তাপমাত্রা প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিছু মরুভূমিতে রাতে পারদ হিমাঙ্কের নিচেও নামতে পারে, যদিও সব জায়গায় প্রতি রাতে এমনটা ঘটে না।

সব মিলিয়ে, শুষ্ক বাতাস, মেঘহীন আকাশ ও দ্রুত গরম-ঠান্ডা হওয়া ভূমি মিলেই মরুভূমিতে দিন ও রাতের এই বিপরীত চিত্র তৈরি করে।

All Categories