পেলে-ম্যারাডোনা কেন জিততে পারেননি ব্যালন ডি’অর, বাধা ছিল পুরস্কারের পুরোনো নিয়ম

তিনবার বিশ্বকাপ জয়ী পেলে, আর ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনাকে একাই টেনে নিয়ে গিয়ে শিরোপা এনে দেন ম্যারাডোনা। সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের তালিকায় দুজনের নাম থাকে সবার ওপরে। তবু প্রতিযোগিতামূলক ব্যালন ডি’অর কখনোই তাদের হাতে ওঠেনি। এর কারণ পারফরম্যান্সের ঘাটতি নয়, বরং পুরস্কারটির তৎকালীন নিয়ম।

আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনের প্যালাডিয়ামে বসছে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান। পুরস্কারটির ৭০ বছর পূর্ণ হওয়ার এই সময়ে পেলে ও ম্যারাডোনার না জেতার প্রসঙ্গটি আবার আলোচনায় ফিরেছে।

১৯৫৬ সালে ফরাসি ম্যাগাজিন ফ্রান্স ফুটবল পুরস্কারটি চালু করে। শুরুতে শুধু ইউরোপের ক্লাবে খেলা ইউরোপীয় ফুটবলাররাই এর জন্য বিবেচিত হতেন। ফলে দক্ষিণ আমেরিকা বা আফ্রিকার তারকারা যত ভালোই খেলুন, তাদের বিবেচনায় নেওয়া হতো না।

পেলের ক্যারিয়ারের বড় অংশ কেটেছে ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসে। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জিতিয়েও তিনি এ কারণে প্রতিযোগিতার বাইরে ছিলেন। ম্যারাডোনা বার্সেলোনা ও নাপোলির মতো ইউরোপীয় ক্লাবে খেললেও আর্জেন্টাইন হওয়ায় তিনিও সুযোগ পাননি।

১৯৯৫ সালে নিয়ম বদলে ইউরোপের ক্লাবে খেলা যেকোনো দেশের ফুটবলারকে বিবেচনার সুযোগ দেওয়া হয়; সে বছর লাইবেরিয়ার জর্জ উইয়াহ প্রথম অ-ইউরোপীয় হিসেবে পুরস্কারটি জেতেন। ২০০৭ সাল থেকে বিশ্বের যেকোনো ক্লাবের খেলোয়াড় এর জন্য যোগ্য হন। তখন পেলে-ম্যারাডোনা অবসরে।

পরে সম্মানসূচক স্বীকৃতি পেয়েছেন দুজনই। ম্যারাডোনা ১৯৯৫ সালে এবং পেলে ২০১৪ সালের জানুয়ারির এক অনুষ্ঠানে সম্মানসূচক ব্যালন ডি’অর পান, যদিও এগুলো আনুষ্ঠানিক বিজয়ীর তালিকায় ধরা হয় না। বর্তমানে লিওনেল মেসি আটবার ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পাঁচবার পুরস্কারটি জিতে রেখেছেন।

All Categories