সাতক্ষীরায় স্ত্রী ও শিশুকন্যা হত্যায় যৌতুকলোভী স্বামীর ফাঁসির আদেশ

সাতক্ষীরায় যৌতুকের জন্য স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে শ্বাসরোধ করে এবং কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আব্দুর রউফ সরদার নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। সোমবার সকালে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রউফ কালিগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আব্দুল্লাহ সরদারের ছেলে। তাঁর হাতে নিহত হন স্ত্রী সাবিনা ইসলাম (২৬) ও মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা। মামলার বাদী সাবিনার মা জাহানারা খাতুন (৫৬), তিনি কালিগঞ্জের তারালি সরদারপাড়ার বাসিন্দা।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে রউফ ও সাবিনার বিয়ে হয় এবং তাঁদের একটি মেয়ে জন্মায়। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই যৌতুক ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। বাদীপক্ষের অভিযোগ, রউফ নিজের মায়ের চিকিৎসার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোটরসাইকেল দাবি করেন। এসব দিতে না পারায় সাবিনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। পরে তিনি মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন।

২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে, তখন বাড়ির বাইরে সাইকেলের শব্দে জাহানারা খাতুনের ঘুম ভেঙে যায়। সন্দেহ হওয়ায় ঘরে গিয়ে তিনি খাটের ওপর মেয়ে ও নাতনির নিথর দেহ দেখতে পান। পরে তিনি কালিগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে চিকিৎসক, তদন্ত কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ ১২ জন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য ও নথিপত্র যাচাই শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই সাজা দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শেখ আলমগীর আশরাফ জানান, আসামি জামিনে বেরিয়ে এরপর থেকে পলাতক আছেন।

All Categories