প্যারিস ফ্যাশন উইকে বানারসি শাড়ির অনুপ্রেরণায় নতুন পোশাকের প্রদর্শনী

প্যারিস ফ্যাশন উইকের মঞ্চে এবার শাড়ির অনুপ্রেরণায় তৈরি বেশ কিছু পোশাক নজর কাড়ে, যেখানে ভারতের ঐতিহ্যবাহী বানারসি কাপড়ের কারুকাজও ছিল।

ব্যতিক্রমী সাজ, নাটকীয় মেকআপ ও শাড়ির আদলে তৈরি পোশাক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২৮ সেপ্টেম্বর প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপুবলিকে কানাডার মন্ট্রিয়লভিত্তিক অ্যাভাঁ-গার্দ ফ্যাশন ব্র্যান্ড মাটিয়ের ফেকাল তাদের নতুন সংগ্রহ ‘দ্য নাইনটি-নাইন পারসেন্ট’ প্রদর্শন করে। ডিজাইনার স্টিভেন রাজ ভাসকারান ও হান্না রোজ ডালটনের এই সংগ্রহে মোট ৯৯টি লুক ছিল।

সংগ্রহটির কয়েকটি পোশাকে শাড়ি পরার ধরনকে নতুনভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কোথাও শাড়ির পল্লুর আদল, কোথাও আবার শাড়ির ড্রেপিংকে আধুনিক ও ভবিষ্যৎধর্মী পোশাকে রূপান্তর করা হয়েছে।

এর মধ্যে একটি হালকা গোলাপি রঙের পোশাকে শাড়ির আদলের সঙ্গে কাঠামোবদ্ধ জ্যাকেট ছিল। পোশাকটির কাপড় ভারতের বানারসের কারিগরদের হাতে বোনা ও হাতে সূচিকর্ম করা।

আরেকটি পোশাকে গাঢ় লাল রঙের সিল্ক, গোলাপের নকশার সূচিকর্ম, পুঁতি ও ঝালর ছিল। পোশাকটির কাঠামো গাউনের মতো, তবে এতে ভারতীয় কারুশিল্পের স্পষ্ট ছাপ দেখা যায়।

সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে হালকা গোলাপি রঙের একটি বলগাউন, যাতে শাড়ির মতো ড্রেপিং, রুপালি সূচিকর্ম ও ঝলমলে অলংকরণ ছিল।

মডেলের মেকআপেও কপালে সিঁদুরের মতো লাল রঙের ব্যবহার দেখা যায়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় সাজের প্রতি ডিজাইনারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছে।

ফ্যাশন নিয়ে কাজ করা ভারতীয় ব্যক্তিত্বরাও সংগ্রহটির প্রশংসা করেছেন। ডিজাইনার অনাইতা শ্রফ আদাজানিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগ্রহটির একটি ভিডিওতে ‘আই লাভ ইট’ মন্তব্য করেন।

‘দ্য নাইনটি-নাইন পারসেন্ট’ সংগ্রহটির মূল ভাবনা ছিল সমাজের বৃহত্তর অংশের মানুষকে সামনে আনা। গত মৌসুমের ‘দ্য ওয়ান পারসেন্ট’ সংগ্রহে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এক শতাংশ মানুষকে কেন্দ্র করে কাজ করেছিলেন ডিজাইনাররা।

এবারের সংগ্রহে সাদা, কালো ও গাঢ় লাল রঙের পাশাপাশি ডেনিম, চামড়ার পোশাক, টারবান, টিউল স্যুট, বডিকন পোশাক ও নাটকীয় গাউনও ছিল।

শাড়ি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্যাশনে নতুন করে কাজ করা অবশ্য নতুন নয়, তবে ভারতীয় পোশাক ও কারুশিল্প ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি ও যথাযথ কৃতিত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।

All Categories