৫২ বছরেও কারিশমা কাপুর ফিট, রহস্য জানালেন পুষ্টিবিদ

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীর ফিট রাখা সহজ নয়, তবু বলিউড তারকা কারিশমা কাপুর ৫২ বছর বয়সেও নজর কাড়ছেন। তাঁর এই সুস্থ থাকার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন পুষ্টিবিদ রুজুতা দিবেকর। তাঁর কথায়, এখানে কোনো জাদুকরী ডায়েটের ভূমিকা নেই; বরং ত্রিশের কোঠা থেকে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা কিছু নিয়মিত অভ্যাসই আসল ভিত্তি।

নব্বইয়ের দশকে বলিউডে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রীর ফিটনেস নিয়ে দর্শকের আগ্রহ আজও কমেনি। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের প্রিমিয়ারে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে মজা করে পুষ্টিবিদ লিখেছেন, ফিটনেসের রহস্য জিজ্ঞেস করলে কারিশমা হয়তো বলবেন, তিনি দই-ভাত খেয়েই সুস্থ থাকেন। তবে বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক জীবনযাপন।

বয়স বাড়লে পেশির শক্তি, হাড়ের স্বাস্থ্য, বিপাকক্রিয়া ও হরমোনে পরিবর্তন আসে। তাই সমস্যা দেখা দেওয়ার অপেক্ষায় না থেকে আগেভাগেই শরীরের যত্ন শুরু করা উচিত।

পুষ্টিবিদের পরামর্শ, ব্যায়াম শুধু ওজন কমানোর জন্য নয়। পেশি ও হাড় মজবুত রাখা এবং প্রতিদিনের কাজ স্বচ্ছন্দে করার সক্ষমতা ধরে রাখতেও এটি জরুরি। হাঁটা, শক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামসহ নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সপ্তাহজুড়ে নিয়মিত শরীরচর্চা রাখা যেতে পারে।

খাবারের ক্ষেত্রে অনেকে হুট করে ভাত, রুটি বা রাতের খাবার বাদ দেন, কেউ কেউ দ্রুত ওজন কমাতে কঠোর ডায়েটে যান। পুষ্টিবিদের মতে, এর চেয়ে খাবারের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক গড়াই ভালো। শাকসবজি, ফল, ডাল, প্রোটিন, দানাশস্য ও স্বাস্থ্যকর চর্বি মিলিয়ে সুষম খাবার খাওয়া দরকার, সঙ্গে ভিটামিন ডি, বি১২, আয়রন ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতির দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। কোনো খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ঘুম, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক সক্রিয়তা—সবকিছুই সুস্থতায় ভূমিকা রাখে। বয়স বাড়লেই কোমর মোটা হবে বা ত্বক নিস্তেজ হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। মূল কথা হলো ধারাবাহিকতা: কড়া ডায়েটের বদলে নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পুষ্টি আর শরীরের চাহিদা বুঝে চলাই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাখে।

All Categories