উত্তর কোরিয়াকে সীমান্ত বিষয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তাব সিউলের

দুই কোরিয়ার সীমান্তে চড়তে থাকা উত্তেজনা কমাতে সামরিক পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তাব পাঠিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সিউল জানায়, সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আবার চালু করতে পিয়ংইয়ংকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক উপমন্ত্রী কিম হং-চেওল সাংবাদিকদের জানান, আলোচনায় সামরিক সীমানা রেখার (এমডিএল) অবস্থান দুই পক্ষের সম্মতিতে নির্ধারণ, সামরিক হটলাইন ফিরিয়ে আনার উপায় এবং সীমান্তে হঠাৎ সংঘর্ষ এড়ানোর বিষয়গুলো তোলা হবে।

তিনি বলেন, পানমুনজমের মাধ্যমে বৈঠকের তারিখ ও স্থান ঠিক করা যেতে পারে। যুদ্ধবিরতির প্রতীকী এই গ্রামে দুই কোরিয়ার সেনারা মুখোমুখি অবস্থান করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডকে যুক্ত করে তিন পক্ষের বৈঠকেও সিউল রাজি আছে বলে জানান তিনি, আর পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে ইতিবাচক উত্তরের আশা করছে সরকার।

তবে উত্তর কোরিয়া এই প্রস্তাবে সাড়া দেবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। নেতা কিম জং উন দক্ষিণের প্রতি কঠোর নীতি নিয়েছেন এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় সব ধরনের আলোচনা ও সহযোগিতা বন্ধ রেখেছেন।

এর মধ্যেই সীমান্ত এলাকায় উত্তরের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং জানান, সীমান্তে মোতায়েন নতুন সামরিক ইউনিটগুলোকে গুলি চালানোর প্রস্তুতিতে রাখা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম ভারী সশস্ত্র এই সীমান্তে মাইন, কাঁটাতারের বেড়া, সামরিক সড়ক ও ট্যাংকরোধী প্রাচীরও বসানো হয়েছে।

গত মাস থেকে উত্তেজনা বেড়েছে। তখন অসামরিক অঞ্চল (ডিএমজেড) নামে পরিচিত বাফার জোনের পশ্চিম অংশে সামরিক সীমানার কাছে বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। সিউলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানায়, পরিস্থিতির সমাধান না হলে কী ঘটতে পারে তা আগে থেকে বলা কঠিন। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, গত বছরের আলোচনার প্রস্তাবেও পিয়ংইয়ং সাড়া দেয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিয়ং উত্তরকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে কিম ইয়ো জং দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তাবকে প্রহসনের চূড়ান্ত পর্যায় বলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন।

All Categories