সুপ্রিম কোর্টের চাপে ক্যানসারের ১৩৭ ওষুধের দাম কমাচ্ছে ভারত

এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংককর্মীর মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ানোর পর ক্যানসারের ওষুধের দাম কমানোর পথে হাঁটছে ভারত সরকার। আগামী মাস থেকে দেশটিতে ১৩৭টি ক্যানসারের ওষুধ তুলনামূলক সস্তায় পাওয়া যাবে। চড়া দামের কারণে বহু দরিদ্র রোগী চিকিৎসা বন্ধ করে দিচ্ছেন, জমি বেচছেন বা ঋণের জালে জড়াচ্ছেন।

কেরালার সারোজম রাধাকৃষ্ণন ২০২১ সালে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকেরা লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও মাসে ৬৩ হাজার রুপির বেশি খরচ পরিবারের নাগালের বাইরে ছিল। ২০২২ সালে তিনি খরচ কমাতে সরকারি হস্তক্ষেপ চেয়ে কেরালা হাইকোর্টে আবেদন করেন। পরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে ওঠে। সেখানে বিচারকেরা হাসপাতাল ও খুচরা বিক্রেতাদের মুনাফা খতিয়ে দেখেন এবং পরিস্থিতিকে ‘চাঁদাবাজি’ বলে মন্তব্য করেন।

২৯ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে বিচারপতি বিক্রম নাথ ও সন্দীপ মেহতা দেখেন, হাসপাতালে ২ হাজার ৭০০ রুপিতে কেনা একটি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ রোগীর কাছে বিক্রি হচ্ছে ২৭ হাজার রুপি পর্যন্ত দামে। জাতীয় ওষুধমূল্য নির্ধারণ কর্তৃপক্ষের বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিছু ওষুধে গড়ে ১৭০ শতাংশ এবং চরম ক্ষেত্রে ৭০০ শতাংশের বেশি ট্রেড মার্জিন নেওয়া হচ্ছে।

এত দিন ৪২টি ওষুধে ৩০ শতাংশ ট্রেড মার্জিনের সীমা ছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণের পর সরকার আরও ১৩৭টি ওষুধে একই সীমা বসিয়েছে। ওষুধ বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, এতে ওষুধের দাম সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ কমবে এবং রোগীরা বছরে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি রুপি বাঁচাতে পারবেন।

ভারতে বছরে প্রায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার নতুন ক্যানসার রোগী শনাক্ত হন, ২০২০ সালে যা ছিল ১৩ লাখ ৯০ হাজার। চিকিৎসকেরা বলছেন, খরচের ভয়ে অনেক পরিবার কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশনের মাঝপথে চিকিৎসা ছেড়ে দেয়। পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়ার গবেষণা অনুযায়ী, স্বাস্থ্যব্যয়ের কারণে প্রতিবছর প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ভারতীয় দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যান।

আদালত সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে, মূল্যসীমা কেবল ক্যানসারের ওষুধে কেন, পেটেন্টবিহীন সব ওষুধে নয় কেন। জবাব দিতে সরকারকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। রাধাকৃষ্ণন অবশ্য এ ফল দেখে যেতে পারেননি; মামলা চলাকালেই ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি মারা যান।

All Categories