পাবনায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে ৩ জন আহত, পুলিশ মোতায়েন
পাবনার সাঁথিয়ায় ছাত্রদল নেতা ও শিবির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে সাঁথিয়া পেট্রোল পাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল ও হামলার বিচার দাবিতে এলাকায় শোডাউন করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে জামায়াত-শিবির সমর্থক আতিক ফকির এবং সাঁথিয়া পৌর ৬ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম ও জিহাদ মল্লিক সাঁথিয়া পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেলে পেট্রোল নিতে যান। এসময় তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারপিটের ঘটনায় তিনজন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে আতিক ফকিরকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ এনে জামায়াত-শিবিরের কর্মী সমর্থকরা জড়ো হন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাঁথিয়া পৌর সদরের গার্লস স্কুলের সামনে থেকে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল শেষে শহরের তিনমাথা মোড়ে এক পথসভায় পৌর জামায়াত নেতা নজরুল, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি তাজুল ইসলাম, জেলা শিবির নেতা শিখন মোল্লা ও সাদ্দাম হোসেন বক্তব্য দেন।
একই ঘটনায় পাল্টা অভিযোগ এনে প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে থানায় অবস্থান নেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সাঁথিয়া পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. জীবন অভিযোগ করেন, শাহ আলম ও জিহাদ নামে তাদের দুই ছাত্রদল নেতা পাম্পে তেল আনতে গেলে শিবিরকর্মী আতিক ফকির তাদের ওপর হামলা চালায়। মারধর ও খুরের পোচে তাদের জখম করা হয়। আহত ছাত্রদল নেতারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে ছাত্রদল নেতারা থানায় গিয়ে অবস্থান নেন। পরে খবর পেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরাও থানায় যান।
তিনি আরও জানান, আহত ছাত্রদল নেতাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াত-শিবিরের পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমাজসেবা সম্পাদক শিখন মোল্লা বলেন, আতিক ফকির শিবিরের একজন সমর্থক। তিনি পাম্পে তেল নিতে গেলে ছাত্রদলের কয়েকজন তার ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেন। তার মাথায় ছয়টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভায় এ ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে। থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, তেল নিতে যাওয়া দুই ছাত্রদল নেতার ওপর আতিক ফকির হামলা ও মারধর শুরু করেন। পরে উভয়পক্ষের তিনজনই আহত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের শোডাউনে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। উভয়পক্ষই লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।