নতুন ফাঁদে প্রধান শিক্ষিকাকে সরানোর চেষ্টা, কর্মবিরতির ডাক

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়াখলা আবদুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাছিনা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, শৃঙ্খলা ফেরানোর মিটিংয়ের কথা বলে তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট হাছিনা ইসলামকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং আমিনুল ইসলামকে বিদ্যালয়ের সীমানায় প্রবেশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের ওই নির্দেশের পরদিন হাছিনা ইসলাম বিদ্যালয়ে যোগ দেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, হাছিনা ইসলামকে অপসারণের জন্য রোববার (৪ অক্টোবর) কর্মবিরতি ডাকার কথা জানিয়ে তাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শৃঙ্খলা ফেরানোর মিটিংয়ের কথা বলে তাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশের পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার অপসারণ চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। এ ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাছিনা ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পরদিন (৩০ সেপ্টেম্বর) তিনি বিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন এবং নিয়মিত ক্লাস হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সুজন মিথ্যা বলে শিক্ষকদের থেকে স্বাক্ষর নিয়ে কর্মবিরতির কথা বলছেন এবং শিক্ষকদের হুমকি দিচ্ছেন।

এদিকে, বহিষ্কৃত আমিনুল ইসলাম সুজন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বিদ্যালয় শিক্ষকরা শৃঙ্খলা ফেরাতে কর্মবিরতি করছেন। আমার এখানে কোনো ইন্ধন নেই। আমি বিদ্যালয়ে যাই না।’

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলামকে বিষয়টি জানাতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

গত ৩১ মার্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাছিনা ইসলামকে মারধর ও লাথি মেরে চেয়ার থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে হাইকোর্ট হাছিনা ইসলামকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং আমিনুল ইসলামকে বিদ্যালয়ের সীমানায় প্রবেশ না করার নির্দেশ দেন।

হাইকোর্ট আমিনুল ইসলামকে তলব করে তার বিরুদ্ধে ব্যাখ্যা চেয়েছিল। আদালতে তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে জেলে পাঠানোর কথা বলা হলেও তিনি পরে আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

All Categories