কম্বোডিয়ায় নয় মাসে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কার, অনলাইন প্রতারণা-বিরোধী অভিযান

অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ তৎপরতা ঠেকাতে কম্বোডিয়ায় চালানো অভিযানে এ বছরের প্রথম নয় মাসে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে দেশটি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ৮৭টি দেশের মোট ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশিকে বহিষ্কার করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। তবে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন মানবপাচারের শিকার হয়ে জোর করে প্রতারণার কাজে জড়িয়েছেন, তা জানানো হয়নি।

মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার ও সুরক্ষায় কাজ করা সংগঠন অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন বুধবার (২৮ অক্টোবর) কম্বোডিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানায়।

কম্বোডিয়ার অভিবাসন বিভাগের সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে ৩ হাজার ১০৪টি অভিযান হয়েছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন দেশের ৫২ হাজার ৩৯ জনকে আটক করে বহিষ্কার করা হয়।

গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এবার বহিষ্কৃত বিদেশির সংখ্যা ৪১ হাজার ৬৮৫ জন বেশি, অর্থাৎ বৃদ্ধির হার ৪০০ শতাংশেরও ওপরে।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২৩ হাজার জন চীনের নাগরিক। এরপর রয়েছেন আট হাজারের বেশি ইন্দোনেশীয়, চার হাজারের বেশি ভিয়েতনামি ও তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি। পাকিস্তানের আড়াই হাজারের বেশি, মিয়ানমারের প্রায় দুই হাজার এবং থাইল্যান্ডের দেড় হাজারের বেশি নাগরিকও বহিষ্কৃতদের তালিকায় আছেন।

অভিবাসন বিভাগের তথ্যমতে, বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৩৮টি দেশের ১৮ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি অনলাইন প্রতারণায় যুক্ত ছিলেন বলে শনাক্ত হয়েছে।

এ অবস্থায় বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের প্রকৃত পরিস্থিতি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছে ওই ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির মতে, মানবপাচারের শিকার হয়ে প্রতারণার কাজে বাধ্য হওয়া মানুষকে যাচাই ছাড়া অপরাধী ভাবা ঠিক নয়; বরং তাঁদের ভুক্তভোগী হিসেবে চিহ্নিত করে সুরক্ষা ও সহায়তা দিতে হবে।

তারা আরও বলেছে, বহিষ্কৃতদের মধ্যে কতজন দেশে ফিরেছেন এবং কতজন এখনো কম্বোডিয়ায় আটকা আছেন, তার সঠিক তালিকা তৈরি করা দরকার। আটকে থাকাদের দ্রুত দেশে ফেরানো এবং ফেরত আসাদের আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে বহিষ্কৃতরা যেন অন্য কোনো দেশে অবৈধভাবে গিয়ে আবার পাচারের শিকার না হন, সে জন্য নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

All Categories