ইরানি সেনাবাহিনীর হুঁশিয়ারি: প্রয়োজনে ফের পূর্বপ্রস্তুতিমূলক হামলা

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, যেকোনও আক্রমণ প্রতিহত করতে ‘প্রয়োজনে আবারও পূর্বপ্রস্তুতিমূলক সামরিক অভিযান’ চালানো হবে। তিনি দাবি করেছেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

ফার্স নিউজ এজেন্সির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামিনিয়া বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের সামরিক কৌশল প্রতিরক্ষামূলক থেকে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে এবং এটি দ্রুত বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী (ইসরায়েল) শাসনগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে এই সামরিক কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি জানান, এই কৌশলের অংশ হিসেবে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে এবং বিরোধী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটিতে বিমান বাহিনী, সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছে।

আকরামিনিয়া আরও বলেন, যুদ্ধ চলাকালেও ইরান প্রতিদিন সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করে যাচ্ছে এবং বিশাল অস্ত্রের মজুত, অভিজ্ঞতা ও উচ্চ মনোবল নিয়ে তারা যেকোনও আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, শত্রু আঘাত হানলে ইরান আরও কঠোর, ব্যাপক, সিদ্ধান্তমূলক ও দ্রুত জবাব দেবে এবং আগ্রাসন রুখতে প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও পূর্বপ্রস্তুতিমূলক অভিযান চালাবে।

অন্যদিকে, বুধবার আইআরজিসির উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নকভি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং এর ওপর সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি জানান, ইরানের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে এবং প্রণালিতে পাথুরে পথ উড়িয়ে তৈরি করা অবৈধ পথগুলো শিগগিরই বন্ধ করে দেওয়া হবে।

তবে, আইআরজিসির উপদেষ্টার এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন সামুদ্রিক খাতের বিশেষজ্ঞরা। সামুদ্রিক তথ্যবিষয়ক সংস্থা কেপলার-এর হিসাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বাড়লেও সেপ্টেম্বর মাসে ইরান ব্যতীত পারস্য উপসাগরের অন্যান্য দেশের তেল সরবরাহ যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির ৮১ শতাংশে ফিরে এসেছে। গত মাসে মোট ১৪ দিন মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেল রফতানি যুদ্ধপূর্ব সময়কেও ছাড়িয়ে গেছে।

All Categories