বাটলার: ‘আরও সময় ও সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন’ ১৬ গোল হজমের পর
উত্তর কোরিয়ার পর এবার দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়ান ফুটবলের শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে টানা দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম করার পর বাংলাদেশের বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশ নারী দলের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার সাফের সাফল্য এবং এশিয়ান পর্যায়ের চ্যালেঞ্জকে এক পাল্লায় না মাপার আহ্বান জানিয়েছেন। তার নজর এখন ২১ সেপ্টেম্বরের মিয়ানমার ম্যাচের দিকে।
জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে আজ নারীদের ফুটবলে বাংলাদেশ ৬-০ গোলে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে পরাজিত হয়েছে। এর আগে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হেরেছিল দল। ফলে গ্রুপ পর্বে দুই কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ মোট ১৬ গোল হজম করেছে।
এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে এমন ফলের পর নিজেদের সীমাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন বাটলার। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমানে এই পর্যায়টি আমাদের জন্য বড্ড বড় একটি ধাপ। আমি বর্তমানে কথাটির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছি। এশিয়ান পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যে ধরনের অবকাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও প্রস্তুতি প্রয়োজন, তা আমাদের এখনও গড়ে ওঠেনি। প্রতিপক্ষ দলগুলো অলিম্পিক, এশিয়ান কাপ কিংবা এশিয়ান গেমসের মতো আসরে বছরের পর বছর ধরে নিয়মিত খেলছে। তাই এ ধরনের বিশ্বমানের দলের কাছে হারায় কোনও লজ্জা নেই।’
সাফ অঞ্চলের সাফল্য এবং এশিয়ান মঞ্চের চ্যালেঞ্জ যে এক নয়, সেটিও উল্লেখ করেছেন বাটলার। তার ভাষায়, ‘সাফ পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করা আর এশিয়ান গেমস বা এশিয়ান কাপ ফুটবলে লড়াই করার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। দুটো কখনও এক হতে পারে না। আমরা হয়তো আমাদের ছোট ছোট আঞ্চলিক সাফল্যের শিকার হয়ে পড়েছি, কিন্তু এশিয়ান ফুটবলের মূল ধারায় টিকতে হলে আমাদের আরও অনেক সময় ও সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।’
তবে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে এই ম্যাচগুলোকে হতাশার চোখে দেখছেন না বাটলার। বরং এগুলোকে দল পুনর্গঠন ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। আপাতত তার ভাবনায় ২১ সেপ্টেম্বরের মিয়ানমার ম্যাচ।
মিয়ানমার কোচের কৌশল ও প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা থাকার কথা জানিয়ে বাটলার বলেন, ‘আমরা কিছু পরিবর্তন এনেছিলাম, খেলোয়াড়দের বাজিয়ে দেখেছি। এই কঠিন অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। এখন আমাদের প্রধান কাজ হলো ধাক্কা সামলে নিয়ে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়া এবং মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ইতিবাচক ফুটবল উপহার দেওয়া।’