বাংলাদেশের সঞ্জিবের ‘ভার্চুয়াল মিউজিয়াম’ শ্রীলংকার আন্তর্জাতিক কর্মশালায়

দক্ষিণ এশিয়ার প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে শ্রীলংকার কলম্বোয় অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক কর্মশালায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন আহমেদ জামান সঞ্জিব, যিনি ‘ভার্চুয়াল মিউজিয়াম বাংলাদেশ’ এর প্রতিষ্ঠাতা।

‘সার্ক প্রমোটিং ডিজিটাল টেকনোলিজি ফর প্রগ্রেসিভ কালচার হেরিটেজ’ শীর্ষক এই তিন দিনব্যাপী কর্মশালাটি ১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর কলম্বোর সার্ক কালচারাল সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত হয়।

কর্মশালার উদ্বোধন ১৬ সেপ্টেম্বর কলম্বোর দক্ষিণ এশীয় সমবায় পরিবেশ কর্মসূচির সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রীলংকার ডিজিটাল অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এরাঙ্গা বীরারত্নে। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সেন্ট্রাল কালচারাল ফান্ডের মহাপরিচালক ড. নিলান কোরে।

ভার্চুয়াল মিউজিয়াম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ জামান বাংলাদেশ থেকে রিসোর্স পারসন হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ডি. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ, কাউন্সেলর মো. জন্নাতুল হাবিব এবং প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা কমোডর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সচিব রোশনি থমসন, মালদ্বীপের প্রতিনিধি ইসমাইল মামধুহ, নেপালের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত বিজয় কুমার রাউত, পাকিস্তানের হাইকমিশনার মেজর জেনারেল (অব.) ড. নায়্যার নাসিরসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

কর্মশালায় শ্রীলংকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিচালক ওয়ারুনা আলাহাকুন, প্রত্নতত্ত্বের স্নাতকোত্তর ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এস এ জয়াম্পথ, জাতীয় জাদুঘরের বিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক মানোরি গুনাথিলাকা, এবং অস্পৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান চন্দ্রসোমা বিন্দুহেওয়া অংশগ্রহণ করেন।

আহমেদ জামানের উপস্থাপনার মূল বিষয় ছিল, কোনও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ না করেও কীভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে তার স্থাপত্য, কাঠামো, অলংকরণ ও পরিবেশকে সংরক্ষণ করা যায়।

উপস্থাপনার প্রথম ধাপে ড্রোন ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ডিজিটাল ক্যামেরার মাধ্যমে ফটোগ্রামেট্রি করা হয়। বিভিন্ন কোণ থেকে ধারণ করা ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে স্থাপনার ত্রিমাত্রিক তথ্য তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে ভবনের ক্ষুদ্র অংশ, কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য ও পৃষ্ঠের বিবরণ ডিজিটালভাবে নথিবদ্ধ করা সম্ভব হয়।

এরপর আধুনিক ত্রিমাত্রিক সফটওয়্যারের সাহায্যে ক্ষয়ে যাওয়া বা ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশের ডিজিটাল পুনর্গঠন করা হয়। ঐতিহাসিক তথ্য ও সংগৃহীত দৃশ্যমান উপাত্তের ভিত্তিতে তৈরি করা এই ত্রিমাত্রিক মডেলে প্রয়োজন অনুযায়ী টেক্সচার যুক্ত করা যায়।

তৃতীয় ধাপে আনরিয়েল ইঞ্জিন ব্যবহার করে ১:১ স্কেলের ইন্টারেক্টিভ ভার্চুয়াল পরিবেশ তৈরি করা হয়। ফলে দর্শনার্থী বা গবেষক বাস্তব স্থানে উপস্থিত না থেকেও একটি স্থাপনার ডিজিটাল পরিবেশে প্রবেশ করে সেটি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। এটি ভবিষ্যৎ গবেষণা, শিক্ষা ও ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে।

ভার্চুয়াল মিউজিয়াম বাংলাদেশের উদ্যোগে ইতিমধ্যে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য ষাট গম্বুজ মসজিদ, পানাম নগর ও এগারো শিব মন্দিরসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন স্থাপত্যের ডিজিটাল সংরক্ষণ করা হয়েছে।

All Categories