সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড: পরিবারের কাছে এখনও কোনো তথ্য নেই, কেউ খোঁজ নিতে আসেনি

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি তরুণ নজরুল ইসলামের স্বজনদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। রোববার সকালে সদর উপজেলায় নজরুলের বাড়িতে গিয়ে তিনি শোকে কাতর বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে স্বজনেরা পুরো ঘটনা তুলে ধরেন এবং সরকারি খরচে নজরুলের মরদেহ দেশে আনার দাবি জানান।

মা রহিমা বেগম বলেন, বড় ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে সংসারে সচ্ছলতা আনার স্বপ্ন ছিল তাদের। অথচ সৌদিতে যাওয়ার মাস ছয়েকের মধ্যেই একটি অভিযোগে তাকে কারাগারে যেতে হয়। জেলে থাকলেও প্রতি রোববার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন নজরুল। কাউকে কিছু না জানিয়ে, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও না দিয়ে হঠাৎ তার দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ জানান।

বাবা আবদুল বাছির জানান, ধারদেনা করে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন তিনি। মক্কার একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন নজরুল। পরে তার বিরুদ্ধে নারীসংক্রান্ত একটি অভিযোগ ওঠে এবং আদালত মৃত্যুদণ্ড দেন বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ছেলের ঠিক কী অপরাধ ছিল, পরিবার এখনো তা স্পষ্ট জানে না। দোষ থাকলে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো যেত, বাংলাদেশের আইনে বিচারও সম্ভব ছিল। কিন্তু বাবা-মাকে কিছু না জানিয়েই সৌদি কর্তৃপক্ষ দণ্ড কার্যকর করেছে।

আবদুল বাছিরের ভাষ্য, দণ্ড কার্যকরের পর আজ পর্যন্ত সরকারের কোনো প্রতিনিধি তাদের কিছু জানাননি, খোঁজও নেননি। জেলা পরিষদের প্রশাসকই প্রথম বাড়িতে এসেছেন। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় বলে জানান তিনি।

ছেলের মৃত্যুর খবরে নজরুলের বাবা বাকরুদ্ধ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। একই খবর শুনে সেদিন রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নজরুলের ফুফু আবেদা বেগমেরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। বাবা বলেন, ছেলে আসলে কী করেছে তা তিনি জানেন না, একমাত্র আল্লাহই জানেন; তিনি শুধু ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চান।

স্বজনদের সান্ত্বনা দিয়ে সিরাজুল ইসলাম সিরাজ জানান, মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। জেলা পরিষদ থেকে পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি। এ সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাওলানা গাজী নিয়াজুল করিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের কৃষক পরিবারের সন্তান নজরুল (২২) ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে যান। ছয় মাসের মাথায় মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সৌদি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। প্রায় তিন বছর তিন মাস কারাগারে থাকার পর গত ১৪ অক্টোবর নজরুল ও সুইটি আক্তার নামে আরেকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কাজে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের দণ্ড কার্যকর হয়েছে।

All Categories