ইয়েমেন সরকারের হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ঘোষণা
ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দখলে থাকা সব ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার এবং সরকারি কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি রবিবার এক টেলিভিশন ভাষণে এই অভিযানের ঘোষণা দেন। ভাষণে আল-আলিমি বলেন, “আজ আমি প্রজাতন্ত্রের অবশিষ্ট ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার এবং পুরো জাতীয় ভূখণ্ডজুড়ে রাষ্ট্র ও তার প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্ব বিস্তারে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিচ্ছি।” উপকূলীয় অঞ্চল ও কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালি হুথিদের দখলে চলে যাওয়ার পর এবং সাম্প্রতিক সময়ে হুথি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইয়েমেন সরকারের প্রধান সমর্থক সৌদি আরবের সম্মতি ছাড়া আল-আলিমি এমন সর্বাত্মক যুদ্ধের ঘোষণা দিতেন না।
এদিকে, ইয়েমেনের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ শহর তাইজের সংযোগ রক্ষাকারী প্রধান সরবরাহ রুট হুথিরা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গোষ্ঠীটি ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাইজকে অবরুদ্ধ করেছে। এক বিশ্লেষকের মতে, তাইজ পুরোপুরি দখলে না নিলেও এডেন থেকে শহরটিকে বিচ্ছিন্ন করার সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে হুথিরা।
অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, রিয়াদ ও সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ খুরেইস এলাকায় আরামকোর স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি, হামলাগুলো লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের আগুন সৃষ্টি হয়েছে। ১২ ঘণ্টায় সৌদি জোটের ৫০টি হামলার জবাবেই এসব আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে হুথিরা। তবে এ বিষয়ে সৌদি আরবের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ইয়েমেন সরকার জানিয়েছিল, সানা, সাদা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজের কাছে হুথিদের বিভিন্ন ঘাঁটিতে তাদের বাহিনী হামলা চালিয়েছে। সৌদির পাল্টা হামলায় হুথিদের অন্তত দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে গত জুলাইয়ে সংঘাত আবারও তীব্র হয়ে ওঠে।