ভারতে প্রবেশের ঘটনায় বিএসএফের হাতে আটক ২ পুলিশ সদস্য

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ি সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করার কারণে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দুই পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে। তাঁদের হস্তান্তরের সময় এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। আটক পুলিশ সদস্যদের ফিরিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কাজ করছে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। তবে পতাকা বৈঠক কখন হবে বা কোথায় তাঁদের হস্তান্তর করা হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশাবাড়ি সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় পুলিশের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছিল। অভিযানে অংশগ্রহণকারী পাঁচ কনস্টেবল ও একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ছিলেন।

এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক মাদক কারবারি পালানোর চেষ্টা করেন। তাঁকে ধাওয়া করতে গিয়ে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করেন। পরে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক তাঁকে আটক করে। এরপর টহল দলের নেতা এএসআই ইমরান হোসেন তাঁকে ছাড়াতে গেলে তিনিও আটক হন।

ওসি মো. ফারুক হোসেন বলেন, বিএসএফ সদস্যদের ডেকে এনে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় টহল দলের অপর চার সদস্য নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে পুলিশ ও বিজিবিকে বিষয়টি জানান।

বিজিবির পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ৬০ বিজিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, আটক দুই পুলিশ সদস্যকে হস্তান্তরের বিষয়ে বিএসএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে এবং শুক্রবার দিনের যেকোনো সময় তাঁদের হস্তান্তর করা হতে পারে।

আশাবাড়ি সীমান্ত এলাকা ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল। সেখানে অভিযান চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়।

এর আগে ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর সকালে একই এলাকায় ২০৫৯ নম্বর মেইন পিলারসংলগ্ন স্থানে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালাতে গিয়ে ভুলবশত ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে র‍্যাবের একটি দল। তখন বিএসএফ সদস্যরা র‍্যাবের সদস্য রিদান বড়ুয়া, আবদুল মজিদ ও ওয়াহিদকে আটক করে স্থানীয় একটি বিএসএফ ক্যাম্পে নিয়ে যান। তাঁদের সঙ্গে থাকা স্থানীয় দুই সোর্সকেও আটক করা হয়েছিল।

পরে বিএসএফ ও বিজিবির পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আট ঘণ্টা পর তাঁদের হস্তান্তর করা হয়.

All Categories