স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবসরপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্নকর্মীর নামে ভুয়া বিল করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ঝিনাইদহে ১০ বছর আগে অবসরে যাওয়া এক পরিচ্ছন্নকর্মীর নামে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কারের বিল করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ওই বিলের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১১ জুন হাসপাতালটিতে যোগদান করেন ডা. আমানউল্লাহ আল মামুন। এরপর ২৪ জুন ৮৭ নম্বর বিল ভাউচারের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের হাসপাতালের ‘স্বাস্থ্যবিধান ও পানি সরবরাহ’ খাতের বরাদ্দ থেকে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কারের জন্য ৩০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। ভাউচারে হাসপাতালের মহিলা বিভাগের টয়লেট, পুরুষ বিভাগের টয়লেট ও বহির্বিভাগের টয়লেট পরিষ্কারের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিলটি করা হয়েছে প্রায় ১০ বছর আগে অবসরে যাওয়া পরিচ্ছন্ন কর্মী সন্তোষ কুমার দাসের নামে।

এ বিষয়ে সন্তোষ কুমার দাস বলেন, তিনি ১০ বছর আগে চাকরি থেকে অবসরে গেছেন এবং সংশ্লিষ্ট বিলের বিষয়ে কিছুই জানেন না। তিনি কোনো কাগজপত্রেও স্বাক্ষর করেননি। অবসরের পর তিনি ঢাকালে পাড়ায় অবস্থান করছেন এবং অসুস্থতার কারণে বর্তমানে কোনো কাজ করতে পারেন না। তিনি জানান, অবসরের পর থেকে তিনি কখনো হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেননি।

হাসপাতালে কর্মরত হিসাবরক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, এ বিল কে প্রস্তুত করেছে তা জানেন না। তিনি জানান, ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। তিনি আসার পর থেকে হিসাব সংরক্ষণের কোনো কাজ তাকে দেওয়া হয়নি।

ডা. আমানউল্লাহ আল মামুন ভুয়া বিল-ভাউচার ব্যবহার করে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, হাসপাতালে ভুয়া বিল করে টাকা আত্মসাতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, এমন একটি অভিযোগ তিনি পেয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

All Categories