স্পিকারের সঙ্গে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ হয়।

সাক্ষাৎকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, চীন বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে দেশের উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম পদক্ষেপ নেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

স্পিকার বলেন, বিগত সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, অর্থ পাচার, গুম ও খুনের রাজনীতির কারণে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-চীন সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি চীন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে।

বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করার দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। মেগাপ্রকল্পের পাশাপাশি বর্তমানে বাংলাদেশে মাঝারি ও ছোট আকারের বিভিন্ন প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগ রয়েছে।

ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের একটি পণ্য উৎপাদনভিত্তিক কেন্দ্রে পরিণত করতে চীন আগ্রহী। আইসিটিসহ বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিক পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও এগিয়ে যেতে পারে।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর স্থাপন, চলমান রোহিঙ্গা সংকট ও জ্বালানি ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ সবসময় ‘ওয়ান চায়না পলিসি’ সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও এ সমর্থন অব্যাহত রাখবে। তিনি ভোলাসহ বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে চীনা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

এ ছাড়া ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীর প্রার্থিতার বিষয়ে চীন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন স্পিকার।

সাক্ষাৎকালে চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

All Categories