শিল্পকলায় ফের মঞ্চে আরণ্যকের ‘কম্পানি’

শিল্পকলায় ফের মঞ্চে আরণ্যকের ‘কম্পানি’

ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাস, ক্ষমতা দখলের রাজনীতি, অর্থনৈতিক শোষণ আর লুণ্ঠিত সম্পদ পাচারের গল্প নিয়ে আরণ্যক নাট্যদলের নাটক ‘কম্পানি’ আবার মঞ্চে ফিরছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় নাটকটির প্রদর্শনী হবে।

নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন খ্যাতিমান অভিনেতা ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ। এটি আরণ্যকের ৬৬তম প্রযোজনা।

দলটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভারতবর্ষে ইউরোপীয় বণিকদের আগমন থেকে শুরু করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক উত্থান, বাংলার স্বাধীন নবাবি শাসনের অবসান এবং ব্রিটিশ উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নাটকের মূল বিষয়। বাণিজ্যের আড়ালে কীভাবে কোম্পানি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করে, বিভাজনের রাজনীতি, ষড়যন্ত্র ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় বাংলার শাসনভার নিজেদের হাতে নেয়—তা তুলে ধরা হয়েছে মঞ্চে। রবার্ট ক্লাইভের উত্থান, মীর জাফর ও জগৎশেঠকে ঘিরে চক্রান্ত এবং পলাশীর যুদ্ধের পর নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনও নাটকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আরণ্যকের ভাষ্য, ‘কম্পানি’ কেবল ইতিহাসের পুনর্কথন নয়; অতীত ও বর্তমানের মধ্যে সেতু গড়ে নাটকটি প্রশ্ন তোলে—ঔপনিবেশিক শাসন শেষ হলেও লুণ্ঠন, সম্পদ পাচার ও অর্থনৈতিক শোষণের সংস্কৃতি কি সত্যিই বিদায় নিয়েছে, নাকি ভিন্ন রূপে আজও টিকে আছে?

নির্দেশক মামুনুর রশীদ বলেন, “ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মূলত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হলেও অর্থনৈতিক স্বার্থকে ঘিরেই ধাপে ধাপে রাজনৈতিক ক্ষমতার বদল ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতা আজও ভিন্ন চেহারায় বিশ্বব্যবস্থায় রয়ে গেছে। এখনো বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। দখলদারিত্ব, লুটপাট আর সম্পদ বিদেশে পাচারের সংস্কৃতি নানা রূপে চলছেই, তাই নাটকটির প্রাসঙ্গিকতা অটুট।”

২০২৪ সালের এপ্রিলে ‘কম্পানি’ প্রথম মঞ্চে আসে। এতে মামুনুর রশীদ নিজেও অভিনয় করেছেন। আরও অভিনয় করেছেন সাজ্জাদ সাজু, আরিফ হোসেন আপেল, কামরুল হাসান, রুবলী চৌধুরী, সাঈদ সুমন, শাহারান খান, সুজাত শিমুল, জুবায়ের জাহিদ, মরু ভাস্করসহ আরণ্যকের একদল শিল্পী।

All Categories