সিগারেট না দেওয়ায় দোকানদারের গায়ে আগুন লাগানো যুবক আটক
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বাকিতে সিগারেট না দেওয়ায় ইব্রাহিম খলিল (৪০) নামের এক দোকানদারের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে সুমন মিয়া (৩২) নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের সাহিতপুর বাজারে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় ইব্রাহিমকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আগুনে তার শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
আহত ইব্রাহিম খলিল চেংজানা গ্রামের সুলতান উদ্দিনের ছেলে। অভিযুক্ত সুমন মিয়া একই গ্রামের মৃত কদে নেওয়াজের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিম সাহিতপুর বাজারে ‘ইসরাত জাহান স্টোর’ নামে একটি মুদিদোকান চালান। দোকানে বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি বোতলে পেট্রোলও বিক্রি করেন। বৃহস্পতিবার রাতে সুমন মিয়া দোকানে এসে টাকা না দিয়ে একটি সিগারেট চান। দোকানদার তাকে বাকিতে সিগারেট দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে সুমন দোকানের সামনে বিক্রির জন্য রাখা বোতল থেকে পেট্রোল নিয়ে দোকানের সামনে ও ভেতরে ছিটিয়ে দেন। পরে গ্যাসলাইট দিয়ে আগুন ধরিয়ে বোতলটি ইব্রাহিমের দিকে ছুড়ে মারেন এবং তিনি দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। আগুনে দোকানের সামনের অংশ ও ইব্রাহিমের শরীরে আগুন ধরে যায়।
এসময় তার শরীরে আগুন জ্বলতে দেখে বাজারের ব্যবসায়ীরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে ইব্রাহিমের ভাই লাদেন মিয়া জানান, ‘হাসপাতালের ৬০২ নম্বর ওয়ার্ডে তার ভাই চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার শরীরের ৭০ ভাগের বেশি অংশ পুড়ে গেছে। অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।’
এদিকে এ ঘটনার ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, সুমন মিয়া বোতল হাতে নিয়ে দোকানের সামনে পেট্রোল ছিটাচ্ছেন। একপর্যায়ে তিনি আগুন ধরিয়ে দৌড়ে যান। এসময় ইব্রাহিমের শরীরে আগুন ধরে গেলে তিনি দৌড়ে দোকান থেকে বের হন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার সহিলাটি গ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সুমন মিয়া ঘটনা সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’