শীতে শরীরে পানির ঘাটতি হচ্ছে কি না, বুঝবেন যেসব লক্ষণে
শীতকালে তৃষ্ণা কম লাগে বলে অনেকেই পানি কম খান। কিন্তু শরীরে পানির অভাব হলে শুধু গলা শুকিয়ে যায় না, আরও নানা অস্বস্তি দেখা দেয়। ক্লান্তি, মাথাব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথা ঘোরা কিংবা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়াও এর ইঙ্গিত হতে পারে। লক্ষণগুলো আগেভাগে চিনলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।
তৃষ্ণা পাওয়া পানির ঘাটতির সবচেয়ে প্রাথমিক সংকেত। শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য নড়ে গেলে মস্তিষ্ক তৃষ্ণার বার্তা পাঠায়। একই সঙ্গে হরমোনের মাধ্যমে কিডনিকে বলা হয় প্রস্রাবের সঙ্গে কম পানি বের করতে।
মুখ শুকিয়ে যাওয়াও একটি প্রাথমিক লক্ষণ। লালাগ্রন্থি দিনে প্রায় এক থেকে দেড় লিটার লালা তৈরি করে। পানি কম খেলে লালায় পানির অংশ কমে যায়, তাই মুখ শুকনো লাগে।
প্রস্রাবের রঙে নজর দিন। পর্যাপ্ত পানি খেলে রং সাধারণত হালকা হলুদ থাকে। পানি কমে গেলে কিডনি পানি ধরে রাখতে চায়, ফলে প্রস্রাব ঘন হয় এবং রং গাঢ় হলুদ বা অ্যাম্বার ধরনের হয়ে যায়। প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলেও বুঝতে হবে আরও পানি দরকার।
পানির অভাবে ক্লান্তি লাগতে পারে, মনোযোগ কমে যেতে পারে, এমনকি কখনো কখনো দিশেহারা ভাবও আসে। রক্তের পরিমাণ ও রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং পানি-লবণের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার প্রভাব মস্তিষ্কের কাজে পড়ে বলেই এমন হয়।
শরীরে পানি কমলে মল শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায়, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বসা বা শোয়া থেকে হঠাৎ উঠলে মাথা ঘুরে উঠলে সেটিও পানির ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে, কারণ রক্তের পরিমাণ কমে রক্তচাপ নেমে যায়। তবে মাথা ঘোরার সঙ্গে বুকে ব্যথা, কথা বলতে বা হাঁটতে কষ্ট, শরীরের কোনো অংশ অসাড় বা দুর্বল হওয়া কিংবা দৃষ্টির পরিবর্তন থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
মাথাব্যথাও পানির অভাবে হয়। যাঁদের মাইগ্রেন বা টেনশনজনিত মাথাব্যথা আছে, তাঁদের কষ্ট বাড়তে পারে। এই ব্যথা সাধারণত হালকা ও ভোঁতা ধরনের হয় এবং কাঁধ, ঘাড় ও মাথার পেছন দিকেও অনুভূত হতে পারে।
রক্তের পরিমাণ কমে গেলে শরীরের সব অংশে অক্সিজেন পৌঁছাতে হৃৎপিণ্ডকে বেশি জোরে কাজ করতে হয়। তাই ব্যায়ামের সময় স্মার্টওয়াচ বা ফিটনেস ব্যান্ডে হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দেখা যেতে পারে, কারও কারও বুক ধড়ফড়ও করে। শীত হোক বা গ্রীষ্ম, নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস তাই জরুরি।