গুয়াহাটির হোটেলে ইজারাদারের গুলিতে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত

ভারতের আসামের রাজধানী গুয়াহাটির একটি হোটেলে গুলিবর্ষণে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। হোটেলের মালিকপক্ষ ও ইজারাদারের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পত্তি-বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভারতীয় গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হয়।

পুলিশ জানায়, হোটেলের ইজারাদার ঘনকান্ত গোগোই নিজেই গুলি চালিয়েছেন; তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হোটেলমালিক হেলেনা ভরালী, তাঁর ছেলে দেবর্ষি কাশ্যপ, পুত্রবধূ রিনিকি কাশ্যপ, আত্মীয় নারায়ণ দাস এবং হেলেনার ভাই ভূদেব ভরালী। গুলিবিদ্ধ আরেক আত্মীয় সত্যেন্দ্র পাঠক গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন।

গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার পার্থ সারথি মহন্ত সাংবাদিকদের জানান, মোট ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, তাঁদের পাঁচজন মারা গেছেন। ঘটনাস্থল থেকে ৩২ বোরের একটি লাইসেন্স করা পিস্তল জব্দ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাঁর ভাষ্য, হোটেলের ইজারা নিয়ে সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধই ঘটনার মূল কারণ বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে; নিহত ও আহত সবাই হোটেলমালিকের পরিবার ও স্বজন।

ঘটনার পর আসাম প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি ও জোরহাটের সাংসদ গৌরব গোগোই উলুবাড়ির হোটেলে এই গুলিবর্ষণে গভীর শোক ও উদ্বেগ জানান। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

গৌরব গোগোইয়ের মতে, এ ঘটনা গুয়াহাটির জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দায় নেওয়ার দাবি জানান এবং নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিচার ও এমন ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

All Categories