সাজেক ছাড়লেন সব পর্যটক, প্রশাসনের নির্ধারিত সময়ের আগেই
রাঙ্গামাটির সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে অবস্থানরত সব পর্যটক প্রশাসনের নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগে সোমবার এলাকা ছেড়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তায় দুই দফায় মোট ১ হাজার ১৪১ জন পর্যটক খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন। বর্তমানে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে কোনো পর্যটক নেই।
সাজেক কটেজ-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে বিভিন্ন কটেজ ও রিসোর্টে থাকা ৮৫৮ জন পর্যটক সাজেক ত্যাগ করেন। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে আরও ২৮৩ জন এলাকা ছাড়েন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নিরাপত্তা দিয়ে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেয়।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুপর্ণ দেববর্মন জানান, প্রশাসনের নির্দেশনার নির্ধারিত সময়ের আগেই দুই দফায় সব পর্যটক সাজেক ছেড়েছেন। নতুন করে কাউকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, ফলে বর্তমানে সাজেকে কোনো পর্যটক অবস্থান করছেন না।
এদিকে, পর্যটনকেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সাজেকের রিসোর্ট ও কটেজগুলোর সব কক্ষ আগাম বুকিং দেওয়া ছিল। পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় সেই বুকিংয়ের ব্যবসার সুযোগ নষ্ট হচ্ছে।
সুপর্ণ দেববর্মন পর্যটন ব্যবসায়ীদের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সাজেকের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় গত রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী পর্যটনকেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সোমবার বিকাল ৫টার মধ্যে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশনা দিয়ে জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
এর আগে রোববার ভোর ৬টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাজেক সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। এতে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিকাল ৩টা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর অবরোধকারীরা দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করতে সম্মত হন। এরপর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের খাগড়াছড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া শুরু হয়।