‘প্রেম খুঁজতে এখন আরও বেশি বিভ্রান্তি’, বললেন ঐশ্বর্য
আধুনিক যুগে প্রেমের সম্পর্কের প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়েছে। ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পছন্দের মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও, এর ফলে বিভ্রান্তিও বেড়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রেম, ডেটিং অ্যাপ এবং আধুনিক সম্পর্ক নিয়ে তার মতামত তুলে ধরেন অভিনেত্রী ঐশ্বর্য। তিনি বলেন, মানুষের সামনে এখন অনেক বেশি বিকল্প রয়েছে, কিন্তু সঠিক মানুষটিকে খুঁজে বের করা সহজ নয়।
ঐশ্বর্য উল্লেখ করেন, ডেটিং অ্যাপে অসংখ্য বিকল্প থাকার কারণে অনেক সময় মানুষ বুঝতে পারেন না কোন দিকে এগোবেন।
আধুনিক সম্পর্কের নতুন শব্দাবলী নিয়েও তিনি আলোচনা করেন। ‘সিচুয়েশনশিপ’, ‘ন্যানোশিপ’সহ সম্পর্কের বিভিন্ন নতুন সংজ্ঞা নিয়ে তার মন্তব্য, প্রেমের বিষয়টি এখন অনেক বেশি জটিল হয়ে গেছে।
তবে সময়ের সাথে সাথে প্রেম সম্পর্কে তার ধারণাও পরিবর্তিত হয়েছে। তার মতে, প্রেম মানে এখন স্বস্তি, নিরাপত্তা এবং অন্য একজনের সামনে নিজের মতো থাকতে পারা।
ঐশ্বর্য বলেন, সঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি প্রথমেই ‘কম্প্যাটিবিলিটি’ বা মানসিক সামঞ্জস্যকে গুরুত্ব দেন। প্রথম কথোপকথন থেকেই এমন একটি স্বস্তি থাকা প্রয়োজন, যেখানে নিজের কথা নির্ভয়ে বলা যায় এবং অন্যজন সেটিকে বিচার না করে গ্রহণ করেন।
অভিনেত্রী সম্পর্কের মধ্যে বন্ধুত্বকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তার মতে, স্বামী-স্ত্রীর আগে দুজনের ভালো বন্ধু হওয়া জরুরি। তিনি আশপাশের অনেক দম্পতিকে দেখেছেন, যাদের সম্পর্কের ভিত্তি বন্ধুত্ব এবং সেই কারণেই তাদের দাম্পত্য জীবন ভালো চলছে।
প্রেমের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের কথাও জানান ঐশ্বর্য। পর্দায় তিনি অনেক সময় তীব্র ও আবেগঘন প্রেমের গল্পে অভিনয় করলেও বাস্তব জীবনে এমন সম্পর্ক তার পছন্দ নয়।
নিজের অভিনীত ‘মায়ানাদি’ ছবির কথা উল্লেখ করে ঐশ্বর্য জানান, ছবিটি একজন অভিনেতা হিসেবে তার ভাবনাকে অনেকটাই প্রভাবিত করেছে। বাস্তব আবেগনির্ভর প্রেমের গল্পে কাজ করতে তিনি এখনও আগ্রহী। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি সহজ, স্বস্তিদায়ক ও সুখী প্রেমের গল্পই পছন্দ করেন।
ঐশ্বর্যর ভাষায়, তীব্র ও কষ্টভরা প্রেমের গল্প পর্দায় যতই স্মরণীয় হোক, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এমন সম্পর্ক থেকে অনেকটাই দূরে থাকতে চান। তার পছন্দের প্রেমের গল্পের শেষটা বরং হোক সুখের।