প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন পদমর্যাদা অনুযায়ী নির্ধারণ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন পদমর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে চলা বৈষম্যের অবসান ঘটাতে, আদালতের নির্দেশে প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। তবে, বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি এখনও কার্যকর হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারে দশম গ্রেডের বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-২ অনুবিভাগ এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সরকারি আদেশ জারির তারিখের আগে কোনো আর্থিক বকেয়া প্রধান শিক্ষকরা প্রাপ্য হবেন না।
হাইকোর্টের রায়ে প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়টি দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের ফল। ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল দশম গ্রেড করার নির্দেশ দেয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় ধরনের প্রধান শিক্ষকের জন্য ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে এ সুবিধা কার্যকর করার নির্দেশ ছিল।
আদালত প্রধান শিক্ষকদের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার ক্ষমতা দেওয়ার নির্দেশও দেয়। হাইকোর্টের ওই রায় পরে আপিল বিভাগে বহাল থাকে।
বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ জানান, মন্ত্রণালয়ের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছিল। হাইকোর্ট রুল জারি করে পরে রায় দেয়।
সরকার ২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করে, কিন্তু বেতন নির্ধারণে তার প্রতিফলন ঘটেনি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের ১১তম এবং প্রশিক্ষণবিহীনদের ১২তম গ্রেডে রাখা হয়েছিল।
বর্তমান জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী, দশম গ্রেডে মূল বেতন শুরু ৩২ হাজার টাকা থেকে এবং সর্বোচ্চ ৭৭,৩০০ টাকা। পুরোনো বেতন কাঠামোয় দশম গ্রেডের মূল বেতন ছিল ১৬ হাজার থেকে ৩৮,৬৪০ টাকা।
সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড বাড়ানোর প্রস্তাবও প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড বাস্তবায়নের উদ্যোগের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন।