নেতানিয়াহুর ইয়েমেনে হামলার পরিকল্পনা, সৌদি আরবকে খুশি করার চেষ্টা

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ইরান এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক সংঘাতে জড়ানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একটি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। তবে গত ৪৮ ঘণ্টার পরিস্থিতি নির্দেশ করছে যে, নেতানিয়াহু বর্তমানে ইয়েমেনে হামলার দিকে বেশি ঝুঁকছেন। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি রাজনৈতিক সূত্র জানায়, জরিপে তার দলের অবস্থান কিছুটা উন্নত হলেও নেতানিয়াহু এখনও ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ভয় পাচ্ছেন। তাই ইরান, হুথি বা অন্য কোনও শত্রুর বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতের অজুহাতে নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে তিনি মোটেও ভীত নন; বরং এটি তাকে আরও উৎসাহিত করতে পারে।

সূত্রটি আরও উল্লেখ করেছে, যদি নিরাপত্তা ইস্যুগুলো আলোচনার শীর্ষে চলে আসে, তবে তা নেতানিয়াহুকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময়কার স্মৃতি ইসরায়েলি জনগণের মনে করিয়ে দিতে সাহায্য করবে, যা নির্বাচনে তার জন্য উপকারী হতে পারে।

ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের সেপ্টেম্বর মাসের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ ইসরায়েলি বিশ্বাস করেন যে দেশটি ইরানের সঙ্গে পুনরায় যুদ্ধে জড়াতে বাধ্য হবে।

ইসরায়েলের নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে। পেন্টাগনকে ইরানের ওপর সম্ভাব্য আক্রমণের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়ার খবর এলেও, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে জানান যে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে কোনও হামলা চালাবে না। ট্রাম্পের এই ঘোষণা এবং সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলার তীব্রতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটেই নেতানিয়াহুর মনোযোগ ইয়েমেনের দিকে সরে গেছে বলে মনে হচ্ছে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় ১২ জন নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন। এক ইসরায়েলি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন যে হুথি হুমকির মুখে ইসরায়েল যদি সৌদি আরবের প্রধান প্রতিরক্ষাকবচ হয়ে ওঠে, তবে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নমনীয় করে তুলবে এবং দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় আসবে।

তবে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের সহায়তা নেওয়ার প্রস্তাব সৌদি আরব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে। ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সংগ্রহ এবং নিখুঁত হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও রিয়াদ মনে করে এই সহযোগিতা সৌদি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ওয়াইনেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে যুবরাজ বর্তমানে কেবল মার্কিন মধ্যস্থতার মাধ্যমে সামান্য গোয়েন্দা সহায়তা নিচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কূটনৈতিক সূত্র স্বীকার করে যে, সৌদি আরব আসলে নেতানিয়াহুর এই আগ্রহে জল ঢেলে দিচ্ছে। হুথিদের বিরুদ্ধে ফ্রন্টে সংবেদনশীল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তারা এই বিষয়ে কম আগ্রহী।

এর আগে আইডিএফের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে মার্কিন সমকক্ষদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে ইরান তাদের গোপন ও ভূগর্ভস্থ কারখানায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন আবার শুরু করায় ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের উদ্বেগ বাড়ছে। গোয়েন্দা সূত্রের মতে, যুদ্ধের আগের অবস্থায় ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ফিরিয়ে এনেছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। সূত্রটি জানায়, বর্তমান মূল্যায়ন হলো যুদ্ধাপূর্ব সময়ের কাছাকাছি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ইরানের রয়েছে এবং এই বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনও উপায় নেই। তবে নির্বাচনের আগে হামলা না চালানোর কারণ সম্পর্কে সূত্রটি জানায়, এই সব সামরিক সক্ষমতা নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেও ইরানে রয়ে যাবে।

All Categories