না খেয়ে না থেকেও উপবাসের সুফল? জেনে নিন ফাস্টিং মিমিকিং ডায়েট

উপবাস বা ফাস্টিংয়ের উপকারিতা নিয়ে এখন বেশ আলোচনা হয়। গবেষণা বলছে, এটি রক্তচাপ ও প্রদাহ কমাতে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ওজন কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে সমস্যা হলো, ফাস্টিং মানে টানা নির্দিষ্ট সময় কিছু না খেয়ে থাকা। খাবার খেয়েও যদি এর কিছু সুফল পাওয়া যায়? বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘ফাস্টিং মিমিকিং ডায়েট’ ঠিক এমনই একটি পদ্ধতি।

ফাস্টিং মিমিকিং ডায়েট কী
এই পদ্ধতিতে পুরোপুরি না খেয়ে থাকতে হয় না। বরং কয়েক দিন ক্যালরি হিসাব করে খাওয়া হয়, মোট ক্যালরি ও প্রোটিন কমিয়ে রাখা হয় এবং সবজির স্যুপ, শাক, বাদাম ও বীজের মতো উদ্ভিদভিত্তিক হালকা খাবার খাওয়া হয়।

৫ দিনের পরিকল্পনা
সাধারণত মাসে টানা ৫ দিন এই ডায়েট মানা হয়। প্রথম দিন ৭০০ থেকে ১১০০ ক্যালরি এবং পরের চার দিন সর্বোচ্চ ৭৫০ ক্যালরি গ্রহণ করা হয়। এ সময় খাবারের প্রায় ১০ শতাংশ প্রোটিন, ৪৫ শতাংশ শর্করা ও ৪৫ শতাংশ চর্বি থাকে। পুষ্টিবিদের পরামর্শে এই অনুপাত ঠিক রেখে পরিকল্পনা করতে হয়।

সম্ভাব্য উপকারিতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ডায়েট শরীরে কোষের ভেতরের ‘পরিচ্ছন্নতা প্রক্রিয়া’ সক্রিয় করতে পারে, যাতে পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত কোষীয় উপাদান ভেঙে পুনর্ব্যবহৃত হয়। এর ফলে কোষের কার্যক্ষমতা বাড়তে পারে, বার্ধক্যজনিত ক্ষতি কমতে পারে, হৃদ্‌রোগের কিছু ঝুঁকি কমতে পারে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ সহজ হতে পারে। আলঝেইমার্সের ঝুঁকি কমাতেও এটি সহায়ক হতে পারে, যদিও বিষয়টি এখনো গবেষণাধীন।

কারা এড়িয়ে চলবেন
এই ডায়েট সবার জন্য নয়। অন্তঃসত্ত্বা নারী, নিয়মিত কার্ডিও বা ভারী ব্যায়াম করেন এমন ব্যক্তি এবং খাওয়াদাওয়া-সংক্রান্ত মানসিক সমস্যার ইতিহাস আছে এমন কারও জন্য দিনে ৭৫০ ক্যালরির ডায়েট উপযুক্ত নয়। বিএমআই কম হলে, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি বা মাথাব্যথার মতো সমস্যা থাকলে কিংবা ডায়াবেটিস, হরমোনজনিত সমস্যা বা অন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলেও এটি এড়িয়ে চলা উচিত।

খাবার বাদ না দিয়েও ফাস্টিংয়ের সুফল পাওয়ার ধারণাটি নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। তবে এটি শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।

All Categories