দেশে পড়ে আছে দেড় লাখ পরিত্যক্ত ইভিএম, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সংরক্ষণ ব্যয়
দেশের ৪১ জেলায় প্রায় দেড় লাখ পরিত্যক্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পড়ে আছে, যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের ঘাটতিকে এর মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক ই-বর্জ্য দিবস উপলক্ষে বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশাসন: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ৪১ জেলায় দেড় লাখ ইভিএম পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এগুলোর মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা কে করবে, কীভাবে করবে—সে বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। তিনি জানান, যেসব স্থানে যন্ত্রগুলো রাখা হয়েছে, সেগুলোর ভাড়াও প্রতি মাসে জনগণের অর্থ থেকে পরিশোধ করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ই-বর্জ্যের ৯০ শতাংশের বেশি সংগ্রহ করেন অনানুষ্ঠানিক খাতের সংগ্রহকারীরা। অথচ তাদের কোনো স্বীকৃতি নেই, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলারও যথাযথ ব্যবস্থা নেই।
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নীতিগত ঘাটতি, আইন বাস্তবায়নে দুর্বলতা, তথ্যের অভাব এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়হীনতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২১ সালে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা প্রণীত হলেও দক্ষতা ও সচেতনতার ঘাটতিতে এর বাধ্যবাধকতাগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে না। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত সোলার প্যানেল কবে বর্জ্যে পরিণত হবে, তা বিবেচনায় নিয়ে আগাম নীতিমালা তৈরির তাগিদও দেন তিনি।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং ই-বর্জ্যের সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে নতুন রাজস্ব যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে করা একটি গবেষণার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়। আলোচনায় অংশ নেন বিটিআরসির মহাপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন) শফিউর আজম পারভেজ এবং ডব্লিউইইই সোসাইটি বাংলাদেশের চেয়ারপারসন সুমন আহমেদ সাবির।