দুদকের নতুন কমিশনের কার্যক্রম: শেখ হাসিনা ও বেনজীরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান অব্যাহত

নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর ৪১ দিনে ১২১টি মামলা ও ৬১টি অভিযোগপত্রের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে সম্পদ ক্রোক, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এবং দেশজুড়ে অভিযানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সংস্থাটি। তবে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ আলোচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্ত চলছে। দুদকে কোনও ফাইল আটকে নেই এবং কোনও মামলাও থেমে নেই।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকালে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে দুদকের মহাপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২০ আগস্ট থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪১ দিনে ১২১টি মামলা দায়েরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ৬১টি মামলার অভিযোগপত্র বা চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। এছাড়া দেশজুড়ে ৬১টি এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা এবং একটি ফাঁদ মামলা করা হয়েছে।

এছাড়া, আদালতের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে ৬৮ ব্যক্তির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক কিংবা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। ২২ জনের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানের অগ্রগতি জানতে চান। জবাবে দুদকের মহাপরিচালক বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কিছু অভিযোগের ক্ষেত্রে যৌথ তদন্ত দল বা জেআইটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি জানান, অনুসন্ধান কর্মকর্তারা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যগ্রহণ ও নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ চলছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের দায়িত্বে পৃথক কর্মকর্তা রয়েছেন।

বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক বলেন, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি তিনি।

অন্যদিকে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান মহাপরিচালক।

জাতীয় সংসদ ভবনের প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনায় শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। অভিযোগ রয়েছে, কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহিম জোয়ারদারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের।

স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগেও অনুসন্ধান চলছে।

এছাড়া, খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. রশীদুজ্জামানের বিরুদ্ধে জ্ঞাতআয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

All Categories