মীনা কুমারীর ‘পাকিজা’ লন্ডনে নতুন রূপে প্রদর্শিত

মীনা কুমারীর ‘পাকিজা’ লন্ডনে নতুন রূপে প্রদর্শিত

সিনেমা মানেই রূপকথার এক জগত, যেখানে পুরোনো স্মৃতিগুলো নতুনভাবে জীবন্ত হয়ে ওঠে। ঠিক তেমনি এক জাদুকরী সন্ধ্যায় লন্ডনে ইতিহাস গড়ল কিংবদন্তি নির্মাতা কমল আমরোহীর ১৯৭২ সালের অমর সৃষ্টি ‘পাকিজা’। ফোর-কে সংস্করণে নতুন রূপ পাওয়ার পর যুক্তরাজ্যে এর প্রথম প্রদর্শনীতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেল।

রবিবার যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় সিনেমা স্ক্রিন, বিএফআই আইম্যাক্স-এর ক্লোজিং গ্যালা স্ক্রিনিংয়ের জন্য যখন ‘পাকিজা’-র টিকিট ছাড়া হলো, তখন মাত্র একদিনের মধ্যে সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়।

ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আমরোহী পরিবারের ১৪ জন সদস্যসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় পরিচালক কমল আমরোহীর ছেলে তাজর আমরোহী পুরো হলের বাতাস ভারী করে দেন। তিনি স্মরণ করেন তার ‘ছোটি আম্মী’ কিংবদন্তি অভিনেত্রী মীনা কুমারীকে, যিনি ছবিটি মুক্তির মাত্র এক মাস পর প্রয়াত হন।

তাজর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘ছবিটির নেগেটিভ একসময় কোমায় চলে গিয়েছিল, আর আমাদের শিবেন্দ্র ভাই সেটিকে আজ নতুন জীবন দিয়েছেন।’

ফাউন্ডেশনের পরিচালক শিবেন্দ্র সিং ডুঙ্গরপুর জানান, তিন বছর বয়সে দাদীর সঙ্গে হলে বসে এই ছবি দেখার পর থেকেই তার স্বপ্ন ছিল ছবিটিকে পুনরুদ্ধার করার।

মূল নেগেটিভ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবং সাউন্ড বা অন্যান্য উপাদান অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় থাকায় দুই বছর ধরে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা এই অসাধ্য সাধন করেছেন।

শুধু ‘পাকিজা’ নয়, ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পুরনো দিনের হারিয়ে যাওয়া মাস্টারপিসগুলো একে একে বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসছে। এর আগে বার্লিনে ‘ইন হুইচ অ্যানি গিভস ইট দোজ ওয়ান্স’, কানে ‘আম্মা আরিয়ান’ এবং ভেনিসে ‘ইংলিশ, অগাস্ট’-এর মতো সিনেমা পুনরুদ্ধার করে ফাউন্ডেশনটি প্রশংসিত হয়েছে।

All Categories