ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, অভিনেত্রী রেণুর উদ্বেগজনক পরিস্থিতি
ক্যান্সারে আক্রান্ত অভিনেত্রী ও বিগ বস-৭ এর প্রতিযোগী রেণু সাদি বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও উপস্থাপক সারিকা কেবি জানান, রেণু বর্তমানে কেরালার কোট্টায়াম সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
পাঁচটি কেমোথেরাপির পর রেণুর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। সারিকা বলেন, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় রেণুর বড় বোন তাকে ফোন করে জানিয়েছেন যে, রেণুর অবস্থা খুবই গুরুতর।
সারিকা ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রেণুর শারীরিক অবস্থার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, রেণুর প্লেটলেটের মাত্রা অনেক কমে গেছে এবং কেমোথেরাপির পর তার শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে।
সারিকা বলেন, ‘বাস্তবতা অনেক সময় তিক্ত হয়। আজ আমি সেই তিক্ত বাস্তবতার কথাই বলতে এসেছি। আমার প্রিয় বন্ধু রেনুর অবস্থা খুবই খারাপ। সে সংকটজনক অবস্থায় আছে। তার প্লেটলেটের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।’
তিনি আরও জানান, প্রতিবার কেমোথেরাপির পর রেণু পানি খেলেও বমি করতেন। তবে চতুর্থ দফা কেমোথেরাপির পর প্রায় ১০ দিন বিশ্রাম নিয়ে আবার ভিডিও বানানো ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। কিন্তু পঞ্চম দফা কেমোথেরাপির ১০ দিন পরও তিনি উঠে দাঁড়াতে পারছেন না।
সারিকার ভাষ্য, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রেণুর শরীর আরেক দফা কেমোথেরাপি নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এই ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
চলতি বছরের শুরুতে রেণু নিজের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানান, মাত্র ১৫ বছর বয়সে স্তনে একটি পিণ্ডের মতো কিছু অনুভব করেছিলেন, যা পরে ক্যান্সারে রূপ নেয়।
২০২৩ সালের জুনে স্বামী কৌতুকশিল্পী ও মিমিক্রি শিল্পী কোল্লাম সুধির মৃত্যুর পর চিকিৎসকের পরামর্শে রেণু স্ক্যান করান। পরে ম্যামোগ্রাম ও বায়োপসি করার পর ক্যান্সার ধরা পড়ে।
রেণু জানান, প্রথমে বিষয়টি কাউকে বলতে পারেননি এবং পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পর দুই-তিন দিন সেটি লুকিয়ে রেখেছিলেন। পরে তার ম্যানেজার কারিশমা বিষয়টি জানতে পারেন এবং রেণুর বোনকে জানান।
নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে রেণু অন্য নারীদের উদ্দেশে বলেন, শরীরে ব্যথাহীন কোনো পিণ্ড বা অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস