কম দামে শেয়ার কেনার আগে যে বিষয়গুলো না দেখলে ক্ষতির ঝুঁকি
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে লাভ করতে চাইলেও কষ্টের টাকা খোয়ানোর শঙ্কা অনেক বিনিয়োগকারীর মনেই থাকে। কম দামের বা কম পিই রেশিওর শেয়ার সাধারণত আকর্ষণীয় মনে হয়, কিন্তু শুধু এই সূচক দেখেই কিনলে ঝুঁকি থেকে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে এমন কোনো শেয়ার নেই যেটি কিনলে ক্ষতির আশঙ্কা একেবারেই থাকবে না। কম দামের আড়ালে অনেক সময় কোম্পানির দুর্বল আর্থিক অবস্থা, আয় কমে যাওয়ার প্রবণতা বা ঋণ আদায়ের সংকট লুকিয়ে থাকে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যে পিই রেশিও তুলনামূলক কম রয়েছে যমুনা ব্যাংক (২.৮৮), শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক (৩.২৩), সাউথইস্ট ব্যাংক (৩.৪৫), এনসিসি ব্যাংক (৩.৫১) ও প্রাইম ব্যাংকের (৪.১৪)। তবে এটি কোনো শেয়ার কেনার সুপারিশ নয়; সর্বশেষ বাজারদর ও আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী এই অনুপাত বদলাতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায়, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। তিন মাসে এই ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। তবে পুরো খাতের চিত্র দিয়ে একক কোনো ব্যাংকের অবস্থা বিচার করা যায় না।
বিনিয়োগের আগে গত কয়েক বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন, ত্রৈমাসিক আর্থিক বিবরণী, শেয়ারপ্রতি আয়, নগদ লভ্যাংশের প্রকৃত বিতরণ এবং নিরীক্ষকের মতামত যাচাই করা জরুরি। ব্যাংকের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধন পর্যাপ্ততা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন খাত ও কোম্পানিতে বিনিয়োগ ভাগ করে রাখা উচিত। জরুরি প্রয়োজনের অর্থ বা ধারের টাকায় শেয়ার কেনা এবং গুজব বা দ্রুত লাভের প্রলোভনে সিদ্ধান্ত নেওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।