জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে পুলিশ একাডেমি ও কারাগার নির্মাণের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জঙ্গল সলিমপুরের অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান।
তিনি জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে রাজশাহীর সারদার আদলে একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে এবং একইসঙ্গে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারও সেখানে স্থানান্তরিত হবে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, পুলিশের পাশাপাশি জঙ্গল সলিমপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের স্থাপনা নির্মাণের জন্য জায়গা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে সন্ত্রাসমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সলিমপুরে রাজশাহীর সারদার ন্যায় প্রায় ৩০০ একর জায়গায় একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং ৭২ একর জায়গায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরিত করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের অবৈধ অধিবাসীদের পুনর্বাসন এবং সরকারি জমিতে নিয়মতান্ত্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ চলছে, যা ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) নেতৃত্বে হচ্ছে। সভায় ওই কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা রোধে রামুর ১০ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের নেতৃত্বে দুটি সেনাবাহিনী ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পের বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত কাঁটাতারের বেড়া পুনঃনির্মাণ, সোলার লাইট স্থাপন, সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) বসানো এবং ওয়াচ টাওয়ার/কন্ট্রোল টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে অপরাধ দমনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের নেতৃত্বে সমন্বিত যৌথ অভিযান জোরদার করা হবে। এপিবিএনে কর্মরত প্রায় ৪ শত উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তভার দেওয়ার আইনি এখতিয়ার প্রদান করা হয়েছে। জরুরি অবস্থায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে নিরাপত্তা জোরদার করার বিধান বহাল রয়েছে।
মন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, সরকার আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা এবং জাতিসংঘের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুততম সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব বলে বিশ্বাস করে।