জাতিসংঘে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে জাইমা রহমানের দায়িত্ব ও কার্যক্রম

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কর্মকর্তাদের তালিকায় তার নাম ও পদবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি ভোটাভুটির মাধ্যমে সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে এক বছরের জন্য নির্বাচিত হন এবং গত ৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শপথ নেন।

জাইমা রহমান লিগ্যাল অফিসার হিসেবে সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে কাজ করবেন। সেখানে কর্মরত ৪০ জনের মধ্যে তিনি বাংলাদেশের আরও পাঁচজন কর্মকর্তার সঙ্গে রয়েছেন।

লিগ্যাল অফিসার হিসেবে জাইমা রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতির ব্যক্তিগত উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন এবং তিনি জাতিসংঘের মূল আইন বিভাগের কর্মকর্তা নন। তিনি সভাপতিকে রেজুলেশন উত্থাপন, পয়েন্ট অব অর্ডার তুললে রুলিং প্রদান, এবং প্রস্তাবের সংশোধনী গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন।

সাধারণ পরিষদে স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আলোচনা হলে, আইনি সহায়তা প্রদান করে নিশ্চিত করবেন যে সভাপতির সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের সনদ, বিধি ও প্রচলিত নজিরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, ফিলিস্তিন ও ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে আলোচনা চলাকালে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আইনি সুরক্ষা প্রদান করবেন।

জাইমা রহমানের দায়িত্বের মধ্যে থাকবে সাধারণ পরিষদে ওঠা রেজুলেশন বা প্রস্তাবের আন্তর্জাতিক আইন ও পূর্বের নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিকতা যাচাই করা। সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ মন্তব্য করেছেন, খলিলুর রহমানের সভাপতির কার্যক্রমের আইনি দিকগুলো দেখভাল করতে হবে জাইমা রহমানকে।

লিগ্যাল অফিসার হিসেবে তিনি জাতিসংঘের মূল আইন বিভাগসহ অন্যান্য আইনি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবেন এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি বা আইনি বিষয়ে বক্তব্য দিতে হলে সভাপতিকে খসড়া তৈরিতে সহায়তা করবেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই কার্যালয়ে ৪০ জনের একটি টিম কাজ করছে, যেখানে বাংলাদেশের ছয়জনসহ ২৯টি দেশের নাগরিক রয়েছেন।

অন্য বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন—কূটনীতিক মো. আব্দুল আলিম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন, মফিজুল ইসলাম, জাকির আহমেদ ও মো. রফিকুল আলম মোল্লা।

মুন্সি ফয়েজ আহমেদ আরও বলেন, সভাপতি নিজের এখতিয়ার থেকে কিছু লোক নিয়োগ করতে পারেন। সাধারণত আন্তর্জাতিক আইনে অভিজ্ঞ আইনজীবীদের এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। জাইমা রহমানের নিয়োগের ক্ষেত্রে সব মানদণ্ড পূরণ হয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

জাইমা রহমানকে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে একজন ব্যারিস্টার এবং আইন ও নীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন ও রাজনীতি বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টারি করার জন্য সনদ পেয়েছেন।

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশে একজন তালিকাভুক্ত অ্যাডভোকেট হিসেবেও কাজ করছেন। জাইমা রহমান আবাসন, জনকল্যাণ ও শ্রম আইন, স্বাস্থ্য খাতে আইনি পরামর্শ, সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষা আইনের ওপর 'প্রো বোনো' কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

এছাড়া, সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক জননীতি, ডিজিটাল নিরাপত্তা, বিচার পাওয়ার অধিকার এবং শিক্ষা ও লিঙ্গসমতা নিয়ে তার আগ্রহ রয়েছে। মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, এই পদে কাজ করার জন্য জাইমা রহমানের যথেষ্ট যোগ্যতা রয়েছে, যা তাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেবে।

All Categories