ইউরোপে রবিবার ঘড়ি পিছিয়ে যাচ্ছে এক ঘণ্টা, কেন এই নিয়ম

শরতের শেষ দিকে, অক্টোবরের শেষ রবিবার ঘড়ি এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার রীতি ইউরোপে চালু আছে। এবার ২৪ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যরাতে রাত ৩টার ঘড়ি ২টায় ফিরিয়ে আনা হবে। ফলে যারা রাতে কাজ করেন না, তারা এক ঘণ্টা বেশি ঘুমানোর সুযোগ পাবেন। এরপর ভোরে আগেভাগে আলো ফুটবে, আর সন্ধ্যা নামবে আগে।

এই বদলের মাধ্যমে মধ্য ইউরোপীয় গ্রীষ্মকালীন সময়ের (সিইএসটি) অবসান ঘটবে এবং ইউরোপের অধিকাংশ দেশ মধ্য ইউরোপীয় সময়ে (সিইটি) ফিরবে, যা সাধারণত শীতকালীন সময় হিসেবে পরিচিত। পর্তুগাল ও যুক্তরাজ্যও ঘড়ি সমন্বয় করে; তবে সেখানকার সময় মূল ভূখণ্ডের বেশির ভাগ দেশের চেয়ে এক ঘণ্টা পিছিয়ে চলে।

যুক্তরাষ্ট্রে দিনের আলো সাশ্রয়ী সময় শেষ হবে ১ নভেম্বর। এক ভ্রমণ পোর্টালের তথ্যমতে, মরক্কো, থাইল্যান্ড, জাপান, আর্জেন্টিনা ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ঘড়ি বদলের নিয়ম নেই।

১৯৭৬ সালে জ্বালানি সংকটের মুখে জ্বালানি বাঁচাতে ফ্রান্স গ্রীষ্মকালীন সময় চালু করে। ১৯৮০ সালে পশ্চিম জার্মানি ও ইইউভুক্ত আরও কয়েকটি দেশ সময়ের সমন্বয়ে সেই পথ ধরে। এখন সেই যুক্তি অনেকের কাছেই অচল মনে হয়।

বছরে দুবার ঘড়ি ঘোরানো ইউরোপে বহুদিন ধরেই অপছন্দের। ২০১৮ সালে ইইউজুড়ে এক পরামর্শ জরিপে ৮৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মৌসুমি সময় বদল বন্ধের পক্ষে মত দেন। পরের বছর এই প্রথা বাতিলের ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবে বিপুল ভোটে সায় দেয় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট; ভোটের ফল ছিল ৪১০-১৯২।

তবু আইনটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, কারণ স্থায়ীভাবে গ্রীষ্মকালীন না শীতকালীন সময় রাখা হবে, তা নিয়ে সদস্য দেশগুলো একমত হতে পারেনি। করোনা মহামারি ও ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের কারণেও বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় পিছিয়ে পড়ে। ফলে বসন্তে ঘড়ি এগিয়ে আর শরতে পিছিয়ে দেওয়ার চর্চা চলছেই, এবং কাছাকাছি সময়ে তা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

All Categories