জর্ডানে গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ৭, আহত ৪০
জর্ডানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কারাক প্রদেশে একটি গির্জায় শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান চলার সময় বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৪০ জন। সরকার একে চরমপন্থি জঙ্গিদের পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা বলে আখ্যা দিয়েছে।
শুক্রবার আল-মুশাইরফেহ এলাকার হামুদ গির্জায় এই হামলা হয়। হামলাকারীদের ধরতে সারা দেশে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, অন্তত তিন বন্দুকধারী রাস্তার পাশে প্রাচীর ও গাছের আড়াল থেকে গির্জার দিকে গুলি ছুড়ছে, পরে তারা প্রবেশপথের দিকে ছুটে যায়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, অনুষ্ঠানে অনেক মানুষ ছিলেন এবং কয়েক মিনিট ধরে গুলি চলে। সামাজিক মাধ্যমের ভিডিওতে গির্জার প্রবেশমুখের মেঝেতে রক্তের দাগ দেখা গেছে।
ঘটনার পর কারাকে যান জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। তিনি হামলার কড়া নিন্দা জানিয়ে বলেন, দোষীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে এবং বন্দুকের জোরে জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা কখনো সফল হবে না।
পাবলিক সিকিউরিটি ডিরেক্টরেটের প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামলাটি চরমপন্থিদের কাজ হলেও এর পেছনে কোনো দেশি বা আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সরাসরি হাত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান একে অন্ধ চরমপন্থার পরিণতি বলে মন্তব্য করেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সাধারণ মানুষ ও উপাসনালয়ে হামলাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে নিন্দা জানিয়েছেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ একে বর্বর ও ঘৃণ্য আক্রমণ বলেছেন।
জর্ডানে খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠী ছোট একটি অংশ। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশের তুলনায় দেশটি তুলনামূলক স্থিতিশীল হলেও গত কয়েক বছরে একাধিক চরমপন্থি হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করার দাবি করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এই হামলার দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি।