গ্যাস সংকটে দুই দিনের মাথায় ফের থেমে গেল যমুনা সার কারখানা

জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ইউরিয়া উৎপাদন ফের থেমে গেছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টা থেকে কারখানার সব উৎপাদন বন্ধ আছে। কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

কারখানা সূত্র জানায়, এর দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষমতা ১,৭০০ মেট্রিক টন। সাত মাস গ্যাসের অভাবে বন্ধ থাকার পর ২০ সেপ্টেম্বর সরবরাহ ফিরলে উৎপাদন শুরু হয়েছিল। ৭ অক্টোবর বয়লার প্ল্যান্টের যান্ত্রিক ত্রুটিতে আবার বন্ধ হয়। মেরামতের পর ১৬ দিন বিরতি দিয়ে ২৩ অক্টোবর চালু হলেও দুই দিনের মাথায় গ্যাস না পেয়ে আবার বন্ধ করতে হলো। কারখানাটিতে গ্যাস সরবরাহ করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

ফজলুল হক জানান, উৎপাদন চালু রাখতে গ্যাসের চাপ ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই থাকা দরকার। রবিবার ভোর থেকে সেই চাপ না পাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবার উৎপাদনে যাওয়া হবে।

কারখানা সূত্রের ভাষ্য, গ্যাস সংকট ও যন্ত্রপাতির সমস্যায় কয়েক বছর ধরেই উৎপাদন বারবার ব্যাহত হচ্ছে।

বিসিআইসির অধীন এই কারখানার সার ১,৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের ২১ জেলায় পৌঁছায়। উৎপাদন চালু থাকলে মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার তৈরি হয়, যাতে মুনাফা হয় আনুমানিক ৬০ কোটি টাকা। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও প্ল্যান্ট সচল রাখার খরচ চালাতে হয়; শুধু গ্যাস বিল বাবদ মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকা লাগে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে কৃষকদের কাছে সারের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা কৃষি উৎপাদনেও প্রভাব ফেলবে।

All Categories