১৭২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে চার্জশিট গৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ১৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার আদেশ দেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এখন মামলাটি বিচারের জন্য অন্য আদালতে পাঠানো হবে।

শুনানির দিন কারাগারে থাকা আনিসুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার অন্য তিন আসামি পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পলাতক তিনজন হলেন আনিসুলের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম হক, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবাল।

চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি দুদক এ মামলা করে।

দুদকের অনুসন্ধানে আনিসুল হকের নামে-বেনামে প্রায় ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য মিলেছে। পারিবারিক ব্যয় বাদ দিয়ে তাঁর বৈধ আয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা। ফলে আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকার বেশি।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আনিসুল হকের নিজের নামে আছে প্রায় ৯৬ কোটি ৮১ লাখ টাকার সম্পদ। বাকি প্রায় ৮৪ কোটি টাকার সম্পদ তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজনের নামে। এর মধ্যে জেবুন্নেসা বেগমের নামে প্রায় ২৩ কোটি ৩২ লাখ, ইফতেখারুল ইসলামের নামে প্রায় ২০ কোটি ৭২ লাখ এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে প্রায় ৪০ কোটি টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে।

তদন্তে আনিসুল ও তাঁর সংশ্লিষ্টদের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৭৩৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যও উঠে এসেছে। এসব হিসাবে প্রায় ৩৭৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা জমা এবং প্রায় ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

All Categories