‘গার্ল ড্যাড’ কি সঙ্গীর প্রতি বেশি যত্নশীল?

‘গার্ল ড্যাড’ বা মেয়ে সন্তানের বাবাদের নিয়ে সম্প্রতি একটি মজার পরিচিতি তৈরি হয়েছে। বাবাদের মেয়েদের প্রতি বিশেষ মায়া কাজ করে বলে মনে করা হয়। তবে, প্রশ্ন উঠছে—মেয়ে সন্তান থাকা কি বাবার দাম্পত্য সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে?

সাম্প্রতিক একটি গবেষণা জানাচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে এর সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে। ‘ব্যক্তিত্ব ও স্বতন্ত্র পার্থক্য’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, ছেলে সন্তানের বাবাদের তুলনায় মেয়ে সন্তানের বাবারা সন্তানের মায়ের সঙ্গে নিজেদের প্রেমের সম্পর্ক ধরে রাখার ব্যাপারে বেশি আগ্রহ ও অঙ্গীকার দেখিয়েছেন।

প্রায় ১ হাজার ৭০০ অভিভাবককে নিয়ে তিনটি গবেষণায় একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। মেয়ে সন্তানের বাবারা সঙ্গীর প্রতি বেশি ঘনিষ্ঠতা, সম্পর্কের প্রতি অঙ্গীকার, সন্তুষ্টি ও আস্থার কথা জানিয়েছেন।

গবেষকরা বাবাদের বক্তব্যের পাশাপাশি মায়েদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে মায়েরা জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গীরা সম্পর্কের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি সহায়ক।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাবারা শুধু সন্তান পালনে বেশি যুক্ত হচ্ছেন—এমন নয়। পার্থক্যটি মূলত বাবাদের সঙ্গীর প্রতি আচরণে দেখা গেছে।

মায়েদের ক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ে সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কের মূল্যায়নে কোনও পার্থক্য পাওয়া যায়নি। গবেষকদের কাছে এর সঠিক উত্তর নেই, তবে কয়েকটি সম্ভাবনা উত্থাপন করা হয়েছে।

একটি ব্যাখ্যা হলো, মেয়ের জীবনে বাবা অনেক সময় পুরুষ ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রথম উদাহরণ। যদি বাবা মেয়ের মায়ের প্রতি ভালোবাসা, নির্ভরযোগ্যতা, দায়িত্ববোধ ও সম্মান দেখান, তাহলে মেয়ের ভবিষ্যতের সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।

গবেষকদের ধারণা, মেয়ের বাবা হওয়ার পর কেউ হয়তো নিজের দাম্পত্য সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল রাখার ব্যাপারে সচেতন হয়ে উঠতে পারেন। মেয়ের সামনে সম্পর্কের একটি উদাহরণ তৈরি করার বিষয়টিও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

এছাড়া, মেয়েকে ঘিরে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রত্যাশা, সুরক্ষিত রাখার প্রবণতা কিংবা পরিবারের প্রতি বিশেষ দায়িত্ববোধও বাবার আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে গবেষণাটি এমন নয় যে মেয়ে সন্তান হলেই বাবা ভালো সঙ্গী হয়ে যাবেন। একইভাবে ছেলে সন্তানের বাবারা কম ভালোবাসেন বা সম্পর্কের প্রতি কম দায়িত্বশীল—এমনও বলা হয়নি। এখানে মূলত একটি নির্দিষ্ট প্রবণতা দেখা গেছে। কেন এমন হচ্ছে, তা নিশ্চিতভাবে বলতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

গবেষণার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি হলো—সাধারণত আমরা ভাবি, বাবা-মায়ের আচরণই সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু এই গবেষণা উল্টো একটি সম্ভাবনার কথা বলছে—সন্তানও বাবা-মায়ের সম্পর্ককে বদলে দিতে পারে। অর্থাৎ, পরিবারের প্রভাব সবসময় বাবা-মা থেকে সন্তানের দিকে যায় না; কখনও কখনও একজন সন্তানও তার বাবা-মায়ের সম্পর্কের ভেতর নতুন দায়িত্ব, সচেতনতা কিংবা ঘনিষ্ঠতার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

All Categories