গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি, নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
গাড়িতে ব্যবহৃত সিএনজি সিলিন্ডার নিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেওয়ার সময়, সড়ক দুর্ঘটনার পর এবং সিলিন্ডার পরিবহনের সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বোঝাই গাড়ির বিস্ফোরণে প্রাণহানি ঘটে। এত নিয়ম থাকা সত্ত্বেও দুর্ঘটনা কেন থামছে না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রাস্তায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারকারী গাড়িগুলো যেন ভ্রাম্যমাণ বোমা। ফিলিং স্টেশনে, সড়কে এবং কারখানায় গ্যাস সরবরাহের সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে অন্তত ৭টি স্থানে ফিলিং স্টেশনে অটোরিকশা বা বাসে গ্যাস নেওয়ার সময় বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
সেপ্টেম্বরে আশুলিয়ায় গ্যাস সরবরাহের জন্য রাখা সিলিন্ডারবোঝাই গাড়িতে বিস্ফোরণে ৭ জন মারা যান এবং অন্তত ১৬ জন আহত হন। তদন্তে জানা যায়, কিছু সিলিন্ডার মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল।
ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহম্মেদ খান বলেন, ‘অনেক সিলিন্ডার মেয়াদোত্তীর্ণ। স্থানীয় টেকনিশিয়ানরা এগুলোতে কাজ করছে। নজরদারি নেই এবং ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সবাই একে অপরকে দোষারোপ করছে।’
বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন জানান, নির্দিষ্ট সময় পরপর সিএনজি সিলিন্ডার পরীক্ষার নিয়ম থাকা সত্ত্বেও অনেকেই তা মানছে না।
অবৈধভাবে কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস সরবরাহ করছে একটি অসাধু চক্র। অনেক পাম্পে সিএনজি কনভারশন হচ্ছে। পাম্প মালিকরা বলছেন, বাড়তি লাভ এবং গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের চাপের কারণে এটি বন্ধ হচ্ছে না।
ফিলিং স্টেশন থেকে সড়ক, আর সড়ক থেকে শিল্পকারখানা পর্যন্ত নিরাপত্তার প্রতিটি ধাপে গ্যাস সিলিন্ডারের নজরদারি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।